আজ বুধবার, ১৭ Jul ২০২৪, ১১:৩২ অপরাহ্ন

Logo
উজিরপুরের মিল্টন রাতারাতি কোটিপতি, অবশেষে ডিবির খাঁচায় বন্দি

উজিরপুরের মিল্টন রাতারাতি কোটিপতি, অবশেষে ডিবির খাঁচায় বন্দি

মিল্টন সমাদ্দার ও তার স্ত্রী মিতু হালদার

উজিরপুরের মিল্টন রাতারাতি কোটিপতি, অবশেষে ডিবির খাঁচায় বন্দি

পল্লী জনপদ ডেস্ক॥

অবশেষে চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ার আশ্রমের চেয়ারম্যান বহুল আলোচিত মিল্টন সমাদ্দার ডিবির খাঁচায় বন্দি। নানান ঘটনার খলনায়ক মিল্টনের বাড়ি বরিশালের উজিরপুরে। নিজের বাবাকে পেটানোর পর এলাকা থেকে বিতাড়িত হয়ে রাজধানী ঢাকায় আশ্রয় নেন। কর্ম শুরু করেন একটি ফার্মেসিতে। তবে ফার্মেসি থেকে ওষুধ চুরির ঘটনায় তাকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়।

বুধবার (০১ মে, ২০২৪) তাকে গ্রেপ্তারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। ডিবি প্রধান বলেন, মিল্টন ওষুধের ফার্মেসী থেকে বিতাড়িত হয়ে কিছু পড়াশোনা করেন। পরে মিঠু হালদার নামে এক নার্সকে বিয়ে করেন।বিয়ের পর ওল্ড এন্ড চাইল্ড নামের একটি কেয়ার সেন্টার স্থাপনের স্বপ্ন দেখেন তারা।

পরবর্তীতে মিরপুর এলাকায় চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার নামের একটি কেয়ার সেন্টার স্থাপন করেন। তিনি খুঁজে গরীব বৃদ্ধ এবং বাচ্চা শিশুদের সেখানে নিয়ে আসতেন। বিভিন্ন মিডিয়ায় সে জানিয়েছে, তার কেয়ার সেন্টারে অপারেশন থিয়েটার আছে এবং সেখানে সে মানুষের সেবা প্রদান করেন। অপারেশন থিয়েটার থাকতে তো লাইসেন্স থাকতে হবে। তার লাইসেন্স ছিল না।

হারুন অর রশীদ বলেন, মিল্টনের বিরুদ্ধে আমরা অজস্র অভিযোগ পেয়েছি। সে বলেছে তার দুইটা আশ্রম রয়েছে। সাভারের আশ্রমে ৫ থেকে ৭ শত লোক রয়েছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সেখানে ২০ থেকে ৩০ জনের বেশি লোক নেই। আমরা তাকে নিয়ে এসেছি। কিছু অভিযোগকারী রয়েছে তারাও মামলা রুজু করবে। আমরা মিল্টনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবো কত সংখ্যক মানুষ তার কাছে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিল। কত সংখ্যক মানুষ মারা গেল। তার আশ্রমে যে অপারেশন থিয়েটার রয়েছে এর মাধ্যমে কিডনি বিক্রি করেছেন কিনা সেটাও তদন্ত করা হবে।

ডিবি প্রধান বলেন, অভিযোগের বিষয়ে মিল্টনের স্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি লাশগুলো রাতে দাফন করেছেন কেন? তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা জঘন্য অপরাধ। প্রমাণ মিললে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। মিল্টনের বিরুদ্ধে মানবপাচার, শিশুদের ওপর হামলা, আত্মীয়-স্বজন গেলে তাদের মারপিট এবং তার টর্চার সেল, সব কিছুই মামলার মধ্যে আসবে।

তিনি আরো বলেন, মিল্টন সমাদ্দার নিজেই কেন ডেথ সার্টিফিকেট নিজের সাক্ষরে তৈরি করেছেন এবং সেখানে ডাক্তারের কোন সিগনেচার কেনো নেন নাই সেগুলো খুঁজে বের করা হবে। আমরা সবকিছু তদন্ত করে পরবর্তীতে আপনাদেরকে জানাবো। আমরা তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ পেয়েছি সেগুলো তদন্ত করে তাকে রিমান্ডে নিয়ে পরবর্তী বিষয়গুলো জানাবো।

 

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017
Developed By

Shipon