আজ বুধবার, ১৭ Jul ২০২৪, ০৯:৫১ অপরাহ্ন

Logo
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে হামাস-ইসরায়েল “পরিপূর্ণ যুদ্ধবিরতি” পাস

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে হামাস-ইসরায়েল “পরিপূর্ণ যুদ্ধবিরতি” পাস

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার এক শিশু

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে হামাস-ইসরায়েল “পরিপূর্ণ যুদ্ধবিরতি” পাস

পল্লী জনপদ ডেস্ক॥

ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাস হয়েছে। প্রস্তাবে শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে “পরিপূর্ণ যুদ্ধবিরতি”, হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের মুক্তি, মৃত জিম্মিদের দেহাবশেষ ফেরত দেয়া এবং ফিলিস্তিনি বন্দী বিনিময়। ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের ১৪ টি দেশই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। রাশিয়া ভোটদানে বিরত ছিল।

ইসরায়েল ইতোমধ্যে প্রস্তাবে সম্মত আছে বলে রেজল্যুশনে উল্লেখ করা হয়। হামাসকেও রাজি হতে তাগিদ দেয়া হয়েছে এতে।

অর্থাৎ, শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি সেভেনসহ বিভিন্ন দেশের সরকারের সাথেই নিরাপত্তা পরিষদের এই ইস্যুতে আলাপ হয়েছে। গত ৩১শে মে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তিন ধাপের প্রস্তাবটি উন্মোচন করেন।

নিরাপত্তা পরিষদের ভোটাভুটির ফলে সংঘাত বন্ধে প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া চাপ বাড়বে দিতে দুই পক্ষের ওপরই।

শান্তি চুক্তির জন্য সমর্থন আদায়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ বেশ কয়েকটি দেশের নেতৃবৃন্দের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের বৈঠকের পরপরই জাতিসংঘে প্রস্তাব পাসের খবর পাওয়া গেলো।

জাতিসংঘে ভোটাভুটির মাত্র কয়েক ঘন্টা আগেই আরব নেতাদের উদ্দেশে ব্লিঙ্কেন আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যদি যুদ্ধবিরতি চান, ‘হ্যাঁ’ বলতে হামাসের ওপর চাপ প্রয়োগ করুন”।

সশস্ত্র গোষ্ঠীটি এর আগে বলেছিল তারা পরিকল্পনার কিছু অংশ সমর্থন করে। সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবকে ‘স্বাগত’ জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে তারা।

ধারণা করা যায়, হামাস স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং গাজা উপত্যকা থেকে পুরোপুরিভাবে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা চাইবে।

অবশ্য কাতারের দোহায় অবস্থানকারী সংগঠনের রাজনৈতিক নেতৃত্বের তরফে প্রস্তাবের ব্যাপারে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সাড়া মেলেনি বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা।

প্রস্তাবটি গৃহীত হলে সংঘাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজার পুনর্নির্মাণে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের একটি খসড়া থেকে জানা যায়, তিন ধাপের মধ্যে প্রথম ধাপে জিম্মি-বন্দি বিনিময় এবং স্বল্প মেয়াদের যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে।

“স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসান” এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহার রাখা হয়েছে দ্বিতীয় ধাপে।

তৃতীয় ধাপটিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে গাজায় কয়েক বছরব্যাপী রিকনস্ট্রাকশন বা পুনর্নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কয়েক সপ্তাহ আগেই বলেছিলেন ইসরায়েলিরা প্রস্তাবে সম্মত। কিন্তু, মি. নেতানিয়াহু এখনো পর্যন্ত মার্কিন প্রস্তাবে সমর্থন জানাননি।

বাইডেন যখন শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে ইসরায়েলি প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলের ভঙ্গুর জোট সরকারের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে। যার মধ্যে অনেকেই প্রস্তাবে যেতে অনাগ্রহী।

উগ্র ডানপন্থী মন্ত্রীরা এমনও হুমকি দিচ্ছেন যে, যদি এই চুক্তি এগোয় তারা সরকারকে অচল করে দেবেন।

যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা থেকে সাবেক জেনারেল বেনি গানৎজ্ এর পদত্যাগ সেই অস্থিতিশীলতার শংকা আরো উসকে দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এক্স অ্যাকাউন্টে রেজল্যুশনের বক্তব্য পোস্ট করা হয়েছে। পোস্টে বলা হয়, “হামাস বলে তারা যুদ্ধবিরতি চায়, এটি তাদের সেই আন্তরিকতা প্রমাণ করার একটা সুযোগ।”

নিরাপত্তা পরিষদে ভোটের পর জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড বলেন, “আজ আমরা শান্তির পক্ষে ভোট দিয়েছি।”

যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত বারবারা উডওয়ার্ড গাজার পরিস্থিতিকে “বিপর্যয়কর” উল্লেখ করে বলেছেন, “দুর্ভোগ ভয়াবহ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে।”

“বিবদমান পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান তারা যেন এই সুযোগটা গ্রহণ করে এবং ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে স্থায়ীভাবে শান্তির দিকে অগ্রসর হয়,” বলেন মিজ উডওয়ার্ড।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনও নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। গত ২৫শে মার্চেও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করে। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে বিভিন্ন সময় এ ধরনের উদ্যােগে ভেটো দিয়ে এলেও, মার্চের সেই রেজল্যুশনে ভেটো দেয়নি তারা।

তখন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, জিম্মিদের মুক্ত করার জন্য যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র তারা আগের অবস্থান “পরিত্যাগ” করেছে।

গত বছরের সাতই অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রবেশ করে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে ১২০০ ইসরায়েলিকে হত্যা এবং প্রায় ২৫২ জন ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিককে বন্দি করে গাজায় নিয়ে আসে হামাস।

এরপর হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে গাজায় বোমা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ৩৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সূত্র : বিবিসি বাংলা

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017
Developed By

Shipon