আজ শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন

Logo
দেশের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন করেছেন শেখ হাসিনা

দেশের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন করেছেন শেখ হাসিনা

দেশের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন করেছেন শেখ হাসিনা

পল্লী জনপদ ডেস্ক॥

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ভৌগলিক অবস্থানের কারণে একসময় বাংলাদেশই হবে সারা বিশ্বের যোগাযোগের হাব। কক্সবাজার বা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, এটাই হবে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনের হাব। সেটাই আমরা বিশ্বাস করি। সেভাবেই আমরা তৈরি করতে চাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার কিছু পরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন সকাল ১০টার একটু পরেই প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে উদ্বোধন অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। সেখানে শিশুরা নাচেগানে তাকে স্বাগত জানায়। প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় টার্মিনালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এর মধ্যদিয়ে ঢাকার আকাশপথে সম্ভাবনার নবদিগন্ত উন্মোচিত হলো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা স্মারক দেওয়া হয়।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, জাপানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী মাসাহিরো কোমুরা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব মোকাম্মেল হোসেন এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী সাইতো তেতসুও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী পরে টার্মিনাল-৩ পরিদর্শন করেন এবং এর বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁকে এই সুবিধা সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়। তিনি তাঁর লাগেজ চেকিংয়ের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন পাস করার একটি ড্রেস রিহার্সালেও অংশ নিয়েছিলেন এবং তাঁকে পরে বোর্ডিং পাসও দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে তৃতীয় টার্মিনালের ওপর একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের ওপর আরেকটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র ও প্রদর্শিত হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় টার্মিনাল প্রাঙ্গণে পৌঁছালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানান। একদল শিশু গান ও নাচের মাধ্যমে সরকার প্রধানকে স্বাগত জানায়।

এইচএসআইএ-তে উদ্বোধনের সুবিধা হল বাংলাদেশকে বৈশ্বিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার একটি মাইলফলকের উদ্যোগ। যা দেশের পর্যটনের বিকাশে সহায়তা করবে এবং একইভাবে জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখবে।

প্রক্রিয়াটির সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তৃতীয় টার্মিনালের সম্পূর্ণ কার্যক্রমের আগেই বিভিন্ন বিদেশী এয়ারলাইন্স ঢাকায় এইচএসআইএ থেকে তাদের কার্যক্রম শুরুর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যা দেশের বিমান চলাচল খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন টার্মিনালের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন এবং ক্যালিবারেশন সম্পন্ন হওয়ার পর তৃতীয় টার্মিনালটি আগামী বছরের শেষে যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণভাবে চালু হবে। তৃতীয় টার্মিনালটিতে অত্যন্ত পরিশীলিত মেঝে, পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো সহ নজরকাড়া সিলিংয়ে সজ্জিত করা হয়েছে। তৃতীয় টার্মিনালের ডাবল এন্ট্রি ব্রিজসহ ১২টি বোর্ডিং গেট আগামী বছরের মধ্যে চালু হবে এবং পরবর্তী ১৪টি বোর্ডিং ব্রীজ পরবর্তীতে স্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২১,৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর শুরু হয়েছিল। এতে সরকার ৫,০০০ কোটি টাকা দিয়েছে। অবশিষ্ট জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) অর্থায়ন করেছে। ৫৪২,০০০ বর্গ মিটার এলাকা জুড়ে তৃতীয় টার্মিনালে ২৩০,০০০ বর্গ মিটার ফ্লোর স্পেস থাকবে যেখানে হাউজিং ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপার্চার ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ৫৯টি আগমন ইমিগ্রেশন এবং ৩টি ভিআইপি ইমিগ্রেশন ডেস্ক থাকবে। ৩য় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার পর ঢাকা বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এইচএসআইএ’র বার্ষিক যাত্রী হ্যান্ডলিং ক্ষমতা হবে ২৪ মিলিয়ন (পুরানো টার্মিনাল সহ) যা এখন মাত্র ৮ মিলিয়ন এবং বিমানবন্দরটি প্রতি বছর ৫০০,০০০ টন কার্গো হ্যান্ডেল করতে পারবে। ৩৭টি নতুন এয়ারক্রাফট পার্কিং এরিয়া এবং এপ্রোন এলাকায় সংযোগকারী দু’টি ট্যাক্সিওয়ের নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
তৃতীয় টার্মিনালটি একটি মাল্টিমডাল ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের সাথে সংযুক্ত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে যাত্রীরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশ এবং প্রস্থান করতে সক্ষম হয়।

নতুন টার্মিনালটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ভূগর্ভস্থ রেলপথ (এমআরটি-৫, কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর অংশ) এবং একটি ভূগর্ভস্থ টানেলের মাধ্যমে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের সাথে সংযুক্ত হবে। এছাড়া আশকোনা হজ ক্যাম্প থেকে আন্ডারগ্রাউন্ড টানেলের মাধ্যমে হজযাত্রীরা তৃতীয় টার্মিনালে যেতে পারবেন। তৃতীয় টার্মিনালটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের অধীনে একটি জাপানি কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত হবে এবং রক্ষণাবেক্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিউল আজিম যুগান্তরকে বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এর সফট ওপেনিংয়ের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সম্পূর্ণ প্রস্তুত। টার্মিনাল-৩ এর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য নতুন ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে।

থার্ড টার্মিনাল প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মুফিদুর রহমান বলেন, আমরা বলতে পারি তৃতীয় টার্মিনালটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশকে একটি এভিয়েশন হাব হিসাবে গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রথম মাইলফলক।’

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় একনেক। নির্মাণ কাজে অর্থায়ন করছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। বৃহৎ এই থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পটির ব্যয় প্রথমে ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। পরে অবশ্য প্রকল্প ব্যয় ৭ হাজার ৭৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017
Developed By

Shipon