আজ শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন

Logo
শিরোনামঃ
বর্তমান সরকার ‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস’ করেছে : পীর সাহেব চরমোনাই

বর্তমান সরকার ‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস’ করেছে : পীর সাহেব চরমোনাই

বর্তমান সরকার ‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস’ করেছে : পীর সাহেব চরমোনাই

পল্লী জনপদ ডেস্ক॥

দ্রব্যমূল্য, মুদ্রাস্ফীতি, ঋণ আর দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার ‘চরম অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

তিনি বলেছেন, “এ সকল ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারের আগেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল। কিন্তু সরকার তা না করে যে কোনো উপায়ে পুনরায় ক্ষমতায় থাকতে চায়। এটা সরকারের চরম নির্লজ্জতা ও ফ্যাসিবাদী চরিত্রের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।”

বিদ্যমান সংকটময় পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দল, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিনিধিদের সঙ্গে জাতীয় সংলাপ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এই সংলাপে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন বর্জন, সরকারের পতন এবং রাষ্ট্র মেরামতে জাতীয় ঐক্য গঠনের বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন সরকারবিরোধীরা।

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে এক জাতীয় সংলাপে উদ্বোধনী বক্তব্যে এ প্রস্তাব দেন দলটির আমীর ও চরমোনাই মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

প্রস্তাব ৩ টি হচ্ছে:

‘বিদ্যমান সংকটময় পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দল, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিনিধিদের সঙ্গে’ এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে আমরা ৩টি প্রস্তাব আপনাদের বিবেচনার জন্য পেশ করছি।

১. বিতর্কিত নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত একতরফা তফসিল বাতিল করে গ্রেপ্তার বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

২. বর্তমান বিতর্কিত পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে জাতীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। জাতীয় সরকারের গুরুত্ব, বাস্তবতা ও রূপরেখা জাতীয়ভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

৩. কার্যকরী সংসদ, রাজনৈতিক সংহতি এবং শতভাগ জনমতের প্রতিফলনের জন্য পিআর (PR) বা সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির অধিকতর উত্তম পদ্ধতি, যা বিশ্বে স্বীকৃতি লাভ করেছে তা প্রবর্তন করতে হবে।

রেজাউল করীম বলেন, আমরা বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দল ও জন সাধারণকে আহ্বান জানাবো, আসুন আমরা জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে সকল দুর্নীতিবাজ, টাকা পাচারকারী, ব্যাংক লুন্ঠনকারী ও অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে প্রতিহত করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করি।

তিনি বলেন, দুর্নীতিকে মূলৎপাটন করতে পারলে, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে প্রতিহত করতে পারলে চালের দাম কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ৪০ টাকা করা যায়। একই ধারাবাহিকতায় ডাল, তেল ও অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী মূল্য ৩০% কমিয়ে আনা যায়। উৎপাদনমুখী শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২০,০০০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা যায়। সকল পরিবহণের যাত্রীভাড়া ৩০% কমানো যায়। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিলও ৩০% কমানো যায়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, আসুন আমরা বিদ্যমান জাতীয় সংকট নিরসনে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে স্বৈরাচারী রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে মানুষের ভোটাধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে একটি দুর্নীতি, দুঃশাসন ও সন্ত্রাসমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ কল্যাণ রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলি।

তিনি আরও বলেন, আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে বহুমূখী জাতীয় সংকট নিরসনে আমরা কোন একটা পথ খুজে পাবো, ইনশাআল্লাহরেজাউল করীম বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে নির্বাচন ব্যবস্থাকে হত্যা করা হয়েছে। নির্বাচনের ব্যবস্থা এতোটাই খারাপ আগের কোন কোন নির্বাচনে ৫ শতাংশ ভোট ও দিতে যায়নি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই সংলাপ বহু বছর আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে থাকবে। এখানে আমরা যারা সরকার পতনে একদফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন করছি, তারা সবাই এখানে এসেছে। বাম-ডান সবাই এসেছে। এজন্য এই সরকারকে ধন্যবাদ দিতে পারেন যে, তাদের অত্যাচার, নিপীড়ন, অন্যায় ও জুলুমের কারণে আজকে আমাদের সবাইকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে। আজকে আমরা সবাই মজলুম।

দেশে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনকালীন সরকারের বিভিন্ন উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর অধীনে কোন বিশ্বাসে আমরা নির্বাচনে যাবো। উনার বিবেচনায়ই তো যাওয়া উচিত নয়। আর এখন যুক্তির বিষয় নয়। এখন জবরদস্তির ব্যাপার।

সেই জবরদস্তিতে যারা সহযোগিতা করছেন এবং যারা জবরদস্তি করছেন তারা সবাই দেশের জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। সুতরাং আজকের জনগণের সঙ্গে জনগণের অধিকার হরণকারী ও বঞ্চিতকারী এবং জনগণের অধিকার তছনছ করছে যারা তাদের লড়াই। এই সিদ্ধান্তে আমরা যারা এখানে উপস্থিত আছি, তারা সবাই যোগ দিবো।

সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের সভাপতিত্বে সংলাপে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান রিজু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, এলডিপির একাংশের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভূঁইয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি চেয়ারম্যান কে এম আবু তাহের, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি এম আবদুল্লাহ, খেলাফত মজলিসের ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদ সভাপতি খলিলুর রহমান মাদানী, গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি, এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মন্জু, সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার, গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি নুরুল হক নুর, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আব্দুল লতিফ মাসুম, জাগপার সহ সভাপতি রাশেদ প্রধান, গণঅধিকার পরিষদের আরেক অংশের যুগ্ম আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) মিয়া মশিউজ্জামান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017
Developed By

Shipon