আজ বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ন
দুইদিনের ব্যবধানে ঢাকা ও এর আশপাশ এলাকায় চারবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এদের মধ্যে তিনটির উৎপত্তিস্থলই ছিল নরসিংদী এবং একটির ঢাকা। এদের মধ্যে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) একটি এবং শনিবার (২২ নভেম্বর) তিনটি।
শনিবারের অনুভূত হওয়া ভূমিকম্প তিনটিকে বিশেষজ্ঞরা আফটারশক বললেও ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কার কথা বলছেন তারা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির বলেন, সাধারণত বড় ভূমিকম্পের পর এক দুই সাপ্তাহ ধরে আফটারশক হতে পারে। শনিবার তিনটা হয়ে গেলো মৃদু আর হালকা আকারে। এগুলো আফটারশক।
তিনি বলেন, শুক্রবার যেটা হলো ৫.৭ মাত্রার। এটা ফোরশকও হতে পারে। কারণ এর চেয়ে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে ৫.৮ কে আমরা ছোট হিসেবে দেখবো। আজকের সবগুলোই ছিল আফটারশক।
এদিকে, ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, একদিনে তিনটা ভূমিকম্প হওয়াটা প্রত্যাশিত৷ এটা আফটার শক। যে শক্তিটা আটকে ছিল সেটা খুলে যাচ্ছে। আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে যে, সামনে আরও বড় বড় ভূমিকম্প হবে। এটার জন্য আমাদের প্রস্তত হতে হবে।
শনিবারের প্রথম ভূমিকম্পটি সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডে ঢাকা ও এর আশপাশে অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩। এর উৎপত্তি ছিল ঢাকার ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে ২৯ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীর পলাশে।
এরপর সন্ধ্যায় এক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। একটি ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড এবং দ্বিতীয়টি সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৫ সেকেন্ডে। এর মধ্যে রিখটার স্কেলে প্রথমটির মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৭ এবং দ্বিতীয়টি মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩। প্রথম ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকার বাড্ডা ও দ্বিতীয়টির নরসিংদী।
এর আগে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ঢাকাসহ সারাদেশে তীব্র ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উৎপত্তিও ছিল নরসিংদী। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকশ।
ইন্ডিয়ান টেকটোনিক প্লেট তথা `ডাউকি ফল্ট’র ওপর দাঁড়িয়ে সিলেট। শহর থেকে প্রায় ৫৬ দশমিক ৩ কিলোমিটার দূরে ভূগর্ভস্থ এই ফল্ট। ভৌগোলিকভাবে সিলেটের দক্ষিণ প্রান্তে ডাউকি ফল্ট এবং উত্তর-পূর্বে ভুটান সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত কপিলি ফল্ট দুটিই সিলেটের কাছাকাছি। যেকোনো একটিতে শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে সিলেট। এই টেকটোনিক প্লেট বা ভূগর্ভস্থ একাধিক চ্যুতি সক্রিয় থাকায় সিলেটকে ভূমিকম্পের ‘ডেঞ্জার জোন’ চিহ্নিত করে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞরা।