আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ Jul ২০২৪, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন

Logo
সুদানের রাজধানী খার্তুম থেকে কূটনীতিকদের সরিয়ে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

সুদানের রাজধানী খার্তুম থেকে কূটনীতিকদের সরিয়ে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

 

সুদানের রাজধানী খার্তুম থেকে কূটনীতিকদের সরিয়ে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

পল্লী জনপদ ডেস্ক॥

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছেন সুদানের রাজধানী খার্তুম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

“আমার আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের মিলিটারি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তাদের খার্তুম থেকে সরিয়ে আনতে একটি অভিযান পরিচালনা করেছে,” এক বিবৃতিতে বলেছেন বাইডেন।

এর আগে সুদানের প্যারা মিলিটারি র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফ বলেছেন রবিবার ভোরের অভিযানে ছয়টি এয়ারক্রাফট ব্যবহার করা হয়েছে এবং কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করেছে।

তবে ঘটনাটির বিস্তারিত এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। এমনকি কতজনকে সরিয়ে আনা হয়েছে সুদান থেকে সেটিও এখনো নিশ্চিত না। রবিবারের এই অভিযানের আগে যুক্তরাষ্ট্রে বিবিসি’র পার্টনার প্রতিষ্ঠান সিবিসি নিউজ তাদের রিপোর্টে ৭০ জন সরকারি কর্মকর্তাদের সরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলো।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন অবশ্য নিশ্চিত করেছেন যে খার্তুমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এখন বন্ধ। “আমরা সুদানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছি”।
অভিযান সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তিনি জিবুতি, ইথিওপিয়া ও সৌদি আরবকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তিনি একই সাথে দূতাবাস কর্মীদের ‘সাহস ও পেশাদারিত্বের’ এবং তাদের যারা সরিয়ে এনেছে সেই সেনা সদস্যদের দক্ষতার প্রশংসা করেছেন। গত সপ্তাহে সুদানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিদেশী নাগরিকদের সরিয়ে আনা হলো।

এর আগে শনিবার কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাসহ ১৫০ জনেরও বেশি বিদেশীকে সাগরপথে সৌদি আরবের জেদ্দা বন্দরে নেয়া হয়। এদের বেশিরভাগ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নাগরিক। পাশাপাশি মিসর, পাকিস্তান ও কানাডার নাগরিকও ছিলেন তাদের মধ্যে।

যুদ্ধবিরতির আহবান

আরবি ভাষার নিউজ চ্যানেল আল হাদাত তাদের রিপোর্টে বলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি এয়ারক্রাফট তাদের দূতাবাস কম্পাউণ্ডে অবতরণ করেছে। বেশ কিছু টুইটার ব্যবহারকারী তাদের পোস্টে দূতাবাসে হেলিকপ্টার ওঠানামার কথা জানিয়েছেন। তবে বিবিসি এসব খবর যাচাই করে দেখতে পারেনি।

খার্তুম বিমানবন্দরে বারবার গোলা ও গুলি বর্ষণের কারণে বিমানে করে লোকজনকে সরিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন ন্যাশনাল সিকিউরিটি টিমের পরামর্শ পেয়ে শনিবার প্রেসিডেন্ট বাইডেন খার্তুম থেকে কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে আনার আদেশ দেন।

বাইডেন তার বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা সুদানে থাকা আমেরিকানদের সহযোগিতার বিষয়ে আমার দলের চলমান কাজ নিয়ে নিয়মিত রিপোর্ট পাচ্ছি”। “আমরা আমাদের সহযোগী ও অংশীদারদের সাথেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি”। সুদানের সহিংসতার নিন্দা করে তিনি বলেন, “এটা অযৌক্তিক এবং এটা বন্ধ হওয়া উচিত”।

“যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে অবশ্যই অবিলম্বে নি:শর্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে মানবিক সহায়তার সুযোগ দিতে হবে এবং সুদানের জনগণের ইচ্ছেকে সম্মান করতে হবে”।

ওদিকে যুক্তরাজ্য বলছে তারাও তাদের কর্মীদের সরিয়ে আনার উপায় খুঁজছে। সুদানে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের মধ্যে যাদের জরুরি সহায়তা দরকার তাদের জন্য একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকরা কে কোথায় আছে সেটিও জানাতে বলা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের কূটনীতিকদের সরিয়ে আনার কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কানাডা সুদানে থাকা তাদের নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। গত ১৫ এপ্রিল থেকে সুদানে ব্যাপক লড়াই শুরু হয়।

সুদানে কিভাবে বেসামরিক শাসন ফিরিয়ে আনা হবে, মূলত তা নিয়ে দুই ক্ষমতাধর সামরিক অধিনায়কের দ্বন্দ্ব থেকে এই লড়াই চলছে।

সুদানের বর্তমান সামরিক সরকার চলে মূলত সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বে। তার সঙ্গে উপনেতা হিসেবে আছেন আরেকটি আধা-সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) প্রধান মোহাম্মদ হামদান হেমেডটি ডাগালো।

বেসামরিক শাসনে প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই দুটি বাহিনীকে একীভূত করার কথা। কিন্তু আরএসএফ তাদের বিলুপ্ত করার বিপক্ষে, এবং এই পরিকল্পনা থামানোর জন্য তাদের বাহিনীকে রাস্তায় নামায়। এরপর এটি সেনাবাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা আটকা পড়েছেন

শনিবার এক জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সফর সংক্ষিপ্ত করে লন্ডনে ফিরে এসেছেন। যুক্তরাজ্যের কিছু নাগরিক সুদানে আটকা পড়েছেন এবং বিমান যোগাযোগ না থাকায় উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

খার্তুম সফররত ইমান আবু গার্গা বলেছেন তিনি ও তার দুই সন্তানের নাম রেজিস্ট্রেশন করেছেন কিন্তু তারপর থেকে কিছুই হচ্ছে না।

“কোনো সময়সীমা সম্পর্কে আমাদের ধারণা নেই। কি হচ্ছে তাও জানি না। খার্তুম বিমানবন্দর বাদে অন্য কোথাও থেকে আমাদের নেয়া হবে? আমরা কি সড়কপথে যাচ্ছি? এটা হতাশাজনক যে কেউ যোগাযোগ করেনি,” তার অভিযোগ।

আরেকজন ব্রিটিশ নাগরিক বিবিসিকে বলেছেন যে তার কাছে মনে হচ্ছে যে তিনি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ‘সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত’।

সুদানের সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সেনাবাহিনীর প্রধান ফাত্তাহ আল-বুরহান বিদেশীদের সরিয়ে নেবার নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রাজি হয়েছেন ।

যুক্তরাজ্য সরকার বলছে খার্তুমে থাকা কূটনীতিক ও ব্রিটিশ নাগরিকদের সহায়তা করতে সম্ভাব্য সব কিছু করা হচ্ছে। স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছে তারা তাদের নাগরিকদের সরিয়ে আনতে ছয়টি বিমান জিবুতিতে পাঠিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে ৪০০ র মতো মানুষ মারা গেছে। তবে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে এবং চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো এতে করে হিমশিম খাচ্ছে।

খার্তুম ছাড়া পশ্চিমাঞ্চলে দারফুরেও ব্যাপক লড়াই হচ্ছে। জাতিসংঘ হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, দশ হাজার হতে বিশ হাজার মানুষ- যাদের বেশিরভাগ নারী এবং শিশু, সুদান ছেড়ে পালিয়েছে পাশের দেশ চাদে আশ্রয় নেয়ার জন্য। সূত্র : বিবিসি বাংলা

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017
Developed By

Shipon