November 8, 2026, 4:10 pm

Logo
শিরোনামঃ
কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘কাচারি ঘর’ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা এবার জামায়াত-এনসিপির ঐক্যে ফাটল! এনসিপি নেতাদের পদত্যাগে বার্তা স্পষ্ট আজ “ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস” দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য মোংলা বন্দর হবে একটি সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাব : প্রধানমন্ত্রী এবার ইরানের কেশম দ্বীপে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সাংবাদিককে কনডেম সেলে রাখার অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্থানান্তর না হলে হাইকোর্টে রিট এবার পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন দেখছে সরকার ডিসিসি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে দরকষাকষিতে মনোকষাকষি, ঐক্যে ফাটল ১১ দলীয় জোটে! এইচএসসির ফলের অপেক্ষায় পৌনে ১৩ লাখ পরীক্ষার্থী, টেনশনে অভিভাবকরাও
এবার জামায়াত-এনসিপির ঐক্যে ফাটল! এনসিপি নেতাদের পদত্যাগে বার্তা স্পষ্ট

এবার জামায়াত-এনসিপির ঐক্যে ফাটল! এনসিপি নেতাদের পদত্যাগে বার্তা স্পষ্ট

এবার জামায়াত-এনসিপির ঐক্যে ফাটল! এনসিপি নেতাদের পদত্যাগে বার্তা স্পষ্ট

পল্লী জনপদ ডেস্ক ॥

সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় সমঝোতার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। এর জেরে একে একে দল ছেড়েছেন এনসিপির বহু কেন্দ্রীয় নেতা। এই তালিকায় আছেন দলটির ৩ জনপ্রিয় নেত্রী—ডা. তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন ও সামান্তা শারমিন। জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন, দলের আদর্শিক অবস্থান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলে পদত্যাগ করেন তারা।

২৪ এর জুলাই গণঅভুত্থানের পট পরিবর্তনের পর জাতীয় রাজনীতিতে এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টির) পথচলা শুরু। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলটি জামায়াত ইসলামির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। গঠন করে ১১ দলীয় ঐক্যে। এনসিপি গঠনের পর থেকে নানা কারণে সমালোচিত হয়েছে দলটি।

বিশেষ করে জামায়াত ইসলামির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ায় বিভিন্ন সময় দলটির বহু নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। জামায়াত-এনসিপির সর্ম্পকের টানাপোড়ান নতুন কোন ঘটনা নয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন, ঢাকার দুই সিটিতে পৃথক প্রার্থী দেওয়া এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান দল দুইটির মধ্যে দূরত্ব স্পষ্ট। এর মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচিতে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের অনুপস্থিতি জোট ছাড়ার গুঞ্জনকে আরও জোরালো করেছে।

সর্বশেষ এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ জামায়াত-এনসিপির দূরত্বের বিষয়টি খোলাসা করেছে। সামান্তা শারমিন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ নেতাদের একজন। টেলিভিশন টকশোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তরুণদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও দেশ নিয়ে ভাবনা তুলে ধরে অল্প দিনেই তিনি পরিচিতি লাভ করেন। সম্প্রতি সামান্তা শারমিন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন।

হঠাৎ কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এ নিয়ে ফেসবুকে অনেকে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা–বিশ্লেষণ করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এনসিপি নেতৃত্বের সঙ্গে সামান্তার মতাদর্শিক বিরোধ শুরু হয়েছিল প্রায় এক বছর আগে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করার সময় এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তিনি। এই জোটের বিরোধিতা করে এর আগেই এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে ২০ জনের বেশি নেতা পদত্যাগ করেছেন। সামান্তা শারমিনও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে নিজের অসন্তোষের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। সেই সঙ্গে দলে নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, দলের নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতি এবং দলের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান হারিয়ে ফেলার কথা বলেছেন। তাঁর পদত্যাগে বিস্মিত নন বলে জানিয়েছেন এনসিপির নেতারা। তাঁরা বলছেন, সামান্তা শারমিন যেকোনো দিন এনসিপি ছেড়ে যাবেন, এ ব্যাপারে অনেকটা নিশ্চিত ছিলেন। কারণ, এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পর থেকেই তিনি দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছিলেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা হিসেবে একঝাঁক তরুণ মুখ জাতীয়ভাবে আগ্রহের কেন্দ্রে চলে আসেন। তাঁদের মধ্যে সামান্তা শারমিনের পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা, সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম ও নাজিফা জান্নাত, লন্ডনফেরত চিকিৎসক তাসনিম জারাসহ আরও বেশ কয়েকজন নারীনেত্রী ছিলেন।

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপি যখন জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করতে আলোচনা চালাচ্ছিল, সেই সময় প্রথম দিকেই দলটি ছেড়ে যান তাসনিম জারা। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকার একটি আসনে নির্বাচন করে হেরে যান তিনি। জামায়াত বিরোধিতা থেকে পরে দলটি ছেড়ে গেছেন আলোচিত নারীনেত্রী তাজনূভা জাবীন, সৈয়দা নীলিমা দোলা। এনসিপির আরও বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা সে সময় দলটি ছেড়ে যান।

তবে সামান্তার অভিযোগগুলোর কিছু ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি আর কিছু তথ্যগতভাবে সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের অন্যতম সদস্য সারোয়ার তুষার। তিনি বলেন, আমরা চাইনি তিনি (সামান্তা) দল ছেড়ে যান। আমাদের আহ্বায়কও বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, ভিন্ন অবস্থানের কারণে যেন তাঁরা দলে কোনো অস্বস্তি বা চাপে না থাকেন।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম অলটারনেটিভসের সংগঠক মাহফুজ আলম সামান্তার পদত্যাগ নিয়ে তার ফেইসবুকে লিখেছেন, ছয় সদস্যের বৈষম্যবিরোধী লিয়াজোঁ কমিটি থেকে চার শতাধিক কমিটির জাতীয় নাগরিক কমিটিতে উত্তরণ ও বিস্তারে যাঁদের মুখ্য অবদান আছে, তাঁদের নিয়ে নোংরামি ও অপপ্রচার একটা বাজে নজির। দল গঠনের দিন থেকে এ নজির সেই দলের তৎকালীন নেতৃত্বই স্থাপন করেছিলেন। বৃহস্পতিবারও সামান্তা শারমিনকে নিয়ে একই কাণ্ড হলো। কারও নাম উল্লেখ না করেই মাহফুজ লেখেন, যাঁরা ভিত গড়ে দিয়ে জোটের কারণে চলে গেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন। তাঁরা দিনরাত পরিশ্রম করেছেন বলেই দলটাকে আপনারা একটা শেইপে (আকার) পেয়েছিলেন। আর কৃতজ্ঞতা না দেখাতে পারলে রাজনৈতিক সহাবস্থান ও ভালো চর্চার খাতিরে নীরব থাকুন।

জামায়াত জোটে যোগদানকে কেন্দ্র করে গত বছরের ডিসেম্বরে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন চিকিৎসক তাসনিম জারা। গতকাল রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি সামান্তাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। তাসনিম জারা লিখেছেন, সামান্তা শারমিন সেই অল্প মানুষদের একজন, যাঁরা মানুষের জীবনকে বুঝতে ও পাশে দাঁড়াতে তাঁদের কাছে যান। জারার ভাষায়, ওনার (সামান্তা) রাজনৈতিক জার্নি এখনো অনেক বাকি। এমন মানুষের জায়গা আমাদের রাজনীতিতে আরও বড় হওয়া দরকার। ’

জামায়াত-এনসিপির একটি সূত্র জানায়, মূলত আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন জোটগতভাবে না করার বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান থেকেই দুই দলের টানাপোড়েনের সূত্রপাত। বিশেষ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শরিকদের ছাড় না দিয়ে জামায়াতের এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট এনসিপি।

এছাড়াও ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনে জামায়াতের পরাজিত প্রার্থীর আচরণ এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে দলটির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলছে এনসিপি। গত ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম অংশ নেননি। এর আগে ৩০ অক্টোবর শাহবাগে এনসিপির নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং খুলনায় হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যেও জামায়াতের সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা উঠে আসে। দুই নেতাই ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে জামায়াতের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

জামায়াত-এনসিপির নানা ইস্যুতে মতভেদ ও দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে বলে দল দুইটির একাধিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেছেন। তাদের মতে, এই মুর্হুতে দল দুইটির টানাপোড়ান থাকলেও চূড়ান্ত ভাঙ্গন হবে কি না তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

ফটোকার্ড বানান

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2026 dailypollijanapad.com
Developed By

Barishal Host