আজ সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ০৩:২২ অপরাহ্ন

Logo
অবশেষে সাংবাদিকপুত্র হত্যা সন্দেহে মামলা : অভিযোগের তীর বন্ধুদের দিকে

অবশেষে সাংবাদিকপুত্র হত্যা সন্দেহে মামলা : অভিযোগের তীর বন্ধুদের দিকে

 

অবশেষে সাংবাদিকপুত্র হত্যা সন্দেহে মামলা : অভিযোগের তীর বন্ধুদের দিকে

পল্লী জনপদ ডেস্ক॥

অবশেষে সাংবাদিক পুত্র জারিফ’র মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে বরিশাল নগরীর মুসলিম গোরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ওই তরুণের মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলেই লাশ পুনরায় দাফন করা হয়েছে।

মৃত ওই তরুণ মুসাব্বির খান জারিফ (১৯) এ বছর নগরীর অক্সফোর্ড মিশন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছেন। তিনি বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি ও আরটিভির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী খান জসিমের একমাত্র ছেলে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, জারিফের বাবার দায়েরকৃত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক পলি আক্তারের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু আব্দুল্লাহ খান। লাশের সুরতহাল শেষে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

মামলার বাদী নিহত জারিফের পিতা মোহাম্মদ আলী খান জসিম জানিয়েছেন, দাফনের পরবর্তী সময়ের কিছু ঘটনা তার কাছে অস্বাভাবিক লাগলে তিনি গত ৭ ফেব্রুয়ারি জারিফের চার বন্ধু বিকি দাস, অংকন, আসাদ ও বাদলকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। ৯ ফেব্রুয়ারি বিচারক মামলাটি গ্রহণ করে লাশ উত্তোলনে নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিজ ইচ্ছার বিরুদ্ধে বন্ধুদের সাথে বরিশাল নগরীর কাটপট্টি এলাকার নিজ বাসা থেকে মাদারীপুরের উদ্দেশ্যে বের হয় জারিফ। মাদারীপুর পৌঁছে একাধিকবার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে। ২৮ জানুয়ারি জারিফ তার মাকে চলে আসার কথাও জানায়। ওই দিন রাত ১২টার দিকে জারিফের মোবাইলে ফোন করা হলে রিসিভ করেনি।

পরে ২৯ জানুয়ারি বেলা ১২টায় আবারও জারিফের মোবাইলে ফোন দেওয়া হলে তখনও সে রিসিভ করেনি। এ নিয়ে চিন্তার এক পর্যায়ে জারিফের বন্ধু বিকি’র মোবাইলে কল দিলে সেও রিসিভ করেনি। পরে বিকেল ৩টার দিকে বিকি তার মোবাইল ফোনের কল রিসিভ করে জানায় জারিফ মাদারীপুর লেকে গোসল করতে গিয়েছিল বিধায় ফোন ধরতে পারেনি। তখন কথা বলতে চাইলে জারিফ বাড়ির সামনে গেছে জানিয়ে বিকি ফোনের লাইন কেটে দেয়।

তিনি জানান, ২৯ জানুয়ারি আসর নামাজের পর জারিফের তিন বন্ধু দ্বীপ, ইব্রাহিম ও রাজন আমাদের বরিশালের বাসায় এসে জানায় জারিফের হাফানি বা শ্বাস কষ্টের কোনও রোগ রয়েছে কি না। তখন আমি এ ধরনের কোনও রোগ নেই জানিয়ে কি হয়েছে জানতে চাই। ওই সময় তারা একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে কথা বলতে বলে। সেখানে কল দেওয়া মাত্র জানতে পারি জারিফ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।

পরে সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে জারিফকে নিয়ে রওয়ানা দেয় বন্ধুরা। পথিমধ্যে আমার ছেলে এবং বিকিসহ অভিযুক্ত বন্ধুদের মোবাইল নম্বরে কল দিলেও তারা রিসিভ করেনি। সন্ধ্যা ৭টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে জারিফকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। তখন চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্বাভাবিকভাবেই জারিফের দাফন সম্পন্ন করি।

জারিফে বাবা আরও জানান, সময় অতিবাহিত হলে বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া জারিফের মোবাইল খতিয়ে দেখে বিভিন্ন ছবিসহ ডাটা খুজে না পাওয়া, কয়েকদিন পর মোটরসাইকেল উদ্ধার হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের দেওয়া বিভিন্ন তথ্যে জারিফের মৃত্যু স্বাভাবিক নয় বলে নিশ্চিত হন।

এছাড়া যারা মাদারীপুরে জারিফের সঙ্গে ছিল তাদের মধ্যে বিকি হাসপাতালেও আসেনি। এমনকি আমাদের সাথে কোনও যোগাযোগ করেনি। আবার যে অংকনের নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। তার পরিবারসহ অন্য বন্ধুরাও যা বলছে, তাদের একজনের সঙ্গে অন্যজনের কথার মিল নেই। এ কারণে তার ধারণা জারিফকে মাদারীপুর হাসপাতালে ভর্তি করাসহ মৃত্যুর রহস্য চাপিয়ে রাখার পেছনে বড় ধরনের কোনও অপরাধ রয়েছে।

এক কথায় হত্যার সন্দেহ করছে বাদী ও তার পরিবার। বাদী ছেলের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017
Developed By

Shipon