আজ শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন

Logo
শিরোনামঃ
গৌরনদীতে পাঁচ কিশোরী নিখোঁজ, স্বামী-স্ত্রী আটক

গৌরনদীতে পাঁচ কিশোরী নিখোঁজ, স্বামী-স্ত্রী আটক

গৌরনদীতে পাঁচ কিশোরী নিখোঁজ, স্বামী-স্ত্রী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর এলাকা থেকে রহস্যজনক ভাবে একইদিনে পাঁচ কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে। বুধবার সকালে বাসা থেকে বের হয়ে ওই কিশোরীরা নিখোজ হয় বলে জানিয়েছেন তাদের অভিভাবকরা। তবে তিনজন কিশোরী নিখোঁজের সত্যতা পাওয়া গেলেও অপর দুইজনের পরিচয় এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এক কিশোরীর অভিভাবকদের আটক করে পুলিশের কাছে সোর্পদ করেছে নিখোঁজ অপর কিশোরীর অভিভাবকরা। নিখোঁজ হওয়া কিশোরীরা হলো- বাটাজোর ইউনিয়নের বংকুরা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের অষ্টম শ্রেনী পড়ুয়া মেয়ে সুমাইয়া আক্তার নিশি, দেওয়পাড়া গ্রামের বাদশা হাওলাদারের নবম শ্রেনী পড়ুয়া ছাত্রী ইসরাত জাহান এবং আগরপুর গ্রামের জাকির সরদারের দ্বিতীয় স্ত্রী হেলেনুর বেগমের পালিত কন্যা ফাতেমা আক্তার (১৬)। এরমধ্যে প্রবাসী মনিরের স্ত্রী সাহিদা এবং জাকিরের স্ত্রী হেলেনুর বাটাজোর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

নিখোঁজ কিশোরী সুমাইয়া আক্তারের মা সাহিদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বুধবার সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে তার অষ্টম শ্রেনী পড়ুয়া মেয়ে সুমাইয়া আক্তার নিশি (১৩) বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে জানতে পারি বাটাজোর এলাকা থেকে আরও চারটি মেয়ে একইদিনে নিখোঁজ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একইদিন বিকেলে নিখোঁজ ফাতেমা আক্তার তার মা হেলেনুর বেগমের মোবাইলে ফোন করে আমার মেয়েসহ তারা পাঁচজন একত্রে রয়েছে বলে জানায়। বিষয়টি হেলেনুর বেগম আমাদের না জানিয়ে একইদিন রাত দশটার দিকে তার কথিত স্বামী আগরপুরের বাসিন্দা জাকিরকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে আমাদের সন্দেহ হলে হেলেনুর ও জাকিরকে আটক করে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। আমাদের ধারণা আমার মেয়েসহ নিখোঁজ অন্য মেয়েরা হেলেনুরের মেয়ে ফাতেমার সাথে রয়েছে। তাদেরকে পাচারের জন্য কোথাও আটকে রাখা হয়েছে।

দেওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাদশা হাওলাদার বলেন, সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে তার নবম শ্রেনী পড়ুয়া মেয়ে ইসরাত জাহান বাসা থেকে বের হয়ে এখন পর্যন্ত বাসায় ফিরেনি। ওই দুইজনকে আটকের খবর জানতে পেরে ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছি।  অভিযোগ অস্বীকার করে হেলেনুর ও তার স্বামী জাকির সরদার বলেন, আমাদের পালিত ফাতেমাও (মেয়ে) নিখোঁজ রয়েছে। কোথায় আছে তাও জানিনা। অন্যদের নিখোঁজের বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই।

গৌরনদী মডেল থানার এসআই সাহাবুদ্দিন জানান, খবর পেয়ে বুধবার রাত সাড়ে এগারটার দিকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে দুইজনকে উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ শুরু করা হয়েছে। এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রক্রিয়া চলছে।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017
Developed By

Shipon