আজ রবিবার, ২৩ Jun ২০২৪, ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন

Logo
গৌরনদী-আগৈলঝাড়া বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবি

গৌরনদী-আগৈলঝাড়া বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবি

 

গৌরনদী-আগৈলঝাড়া বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

বরিশাল উত্তর জেলা ও গৌরনদী-আগৈলঝাড়া উপজেলা ও পৌর কমিটি বাতিলের দাবিতে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সাথে সাক্ষাত করেন গৌরনদী-আগৈলঝাড়া উপজেলার শীর্ষ স্থানীয় ও তৃনমূল নেতাকর্মীরা। আকস্মিকভাবে সেখানে উপস্থিত হন বরিশাল-১ আসনের সাবেক সাংসদ ও বিএনপি মিডিয়া সেলের আহবায়ক জহীর উদ্দিন স্বপন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা জহীর উদ্দিন স্বপনকে ১/১১র দালাল উল্লেখ করে তার অনুসারি বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিবের দেয়া কমিটি বাতিলের দাবি জানান।

জহীর উদ্দিন স্বপনের বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও উপস্থিত নেতাকর্মীর বক্তব্য দিতে অনুরোধ করলেও স্বপন সেখানে কোন বক্তব্য রাখেননি। সেখানে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, কেন্দ্রীয় সদস্য ও বরিশাল-১ আসন থেকে ২০০৮ সালে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, কেন্দ্রীয় সদস্য ও জাতীয়তাবাদি আইনজীবি ফোরামের সুপ্রীম কোর্ট শাখার সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম স্বজল ও যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান দুলাল উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুর গুলশানস্থ বাসভবনে উপস্থিত গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, গত ৮ মার্চ বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ শহীদুল্লাহ দেওয়ান ও সদস্য সচিব মোঃ মিজানুর রহমান গৌরনদী-আগৈলঝাড়া উপজেলা ও গৌরনদী পৌরসভার আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করেন।

কমিটি ঘোষণার পর বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ শহীদুল্লাহ দেওয়ান ও সদস্য সচিব মোঃ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ বানিজ্য, মূল বিএনপি নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে সুবিধাবাদী, জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা ও এলাকায় অনুপস্থিত জহীর উদ্দিন স্বপনের অনুসারিদের অন্তর্ভূক্ত করার অভিযোগ আনেন। এমনকি কমিটি বাতিলের দাবিতে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ শহীদুল্লাহ দেওয়ান ও সদস্য সচিব মোঃ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল ও তাদের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

এক পর্যায়ে বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহা-সচিব সাবেক ছাত্র নেতা হাবিবুন নবী খান সোহেলকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। নামপ্রকাশ না করার শর্তে তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি তদন্ত কাজ শেষ করে বিএনপির হাইকমান্ডে গত ১৫ এপ্রিল তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। বরিশাল উত্তর জেলা কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন এবং উত্তর কমিটি বাতিল ও গৌরনদী-আগৈলঝাড়া উপজেলা ও গৌরনদী পৌরসভার আহবায়ক কমিটি পূর্ন গঠনের সুপারিশ করেছেন বলেও তিনি জানান।

বরিশাল উত্তর জেলা ও গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার আহবায়ক কমিটি বাতিলের বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার গৌরনদী-আগৈলঝাড়া উপজেলার শীর্ষ স্থানীয় ও তৃনমূল নেতাকর্মীরা বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুর গুলশানস্থ বাসভবনে সাক্ষাত করেন। এ সময় আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সাথে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তিন ঘন্টা সময় সভা করেন গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার নেতাকর্মীরা।

এ সময় আব্দুল আউয়াল মিন্টু জহীর উদ্দিন স্বপনের বিরুদ্ধে তৃনমূল নেতাকর্মীর অভিযোগ শুনেন। সেখানে শুরু থেকে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, কেন্দ্রীয় সদস্য ও বরিশাল-১ আসন থেকে ২০০৮ সালে বিএনপির মনোনয়প্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, কেন্দ্রীয় সদস্য ও জাতীয়তাবাদি আইনজীবি ফোরামের সুপ্রীম কোর্ট শাখার সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম স্বজল ও যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান দুলাল উপস্থিত থাকলেও রাত ৮টার দিকে আকস্মীকভাবে জহীর উদ্দিন স্বপন উপস্থিত হন। স্বপনের সামনেই তাকে ১/১১র দালাল আখ্যা দিয়ে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সুপ্রীম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট কাজী গোলাম মাহবুব ও ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহানকে পরাজিত করতে জহীর উদ্দিন স্বপনের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বক্তারা বলেন, ১/১১র দালাল জহীর উদ্দিন স্বপন বেগম খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া, জিয়া পরিবার ও বিএনপিকে ধ্বংস করতে ষড়যন্ত্র করেছিল। সে আবারও বিএনপিকে ধ্বংস করতে নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তার অনুসারি বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিবকে দিয়ে দলছুট জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীদের গৌরনদী-আগৈলঝাড়া কমিটি ঘোষণা করেছেন। যারা ১/১১ থেকে ১৫ বছর বিএনপির রাজনীতির বাইরে ছিলেন এবং এখনো এলাকায় থাকেন না। অবিলম্বে ওই কমিটির বাতিলের দাবি জানান। জহীর উদ্দিন স্বপনের উপস্থিতিতে গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষোভ ঝাড়লে স্বপন বিবৃতবোধ করে সভায় মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে থাকেন বলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান।

গৌরনদী-আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় ও তৃনমূল শতাধিক নেতাকর্মীর মধ্য থেকে প্রায় ৪০ জন বক্তব্য রাখেন। বক্তারা প্রত্যেকেই জহীর উদ্দিন স্বপনকে ১/১১র দালাল ও বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী আখ্যা দিয়ে গৌরনদীর কৃতি সন্তান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তিন নেতা আকন কুদ্দুসুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান ও গাজী কামরুল ইসলাম সজলের নেতৃত্বে স্বপনকে প্রতিহত করার ঘোষনা দেন।

স্বপনের তার জাপামার্কা উপজেলা ও পৌরসভা কমিটি বাতিলের দাবি জানান। বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বক্তব্যে বলেন, ১/১১র কুশীলব জহীর উদ্দিন স্বপনের নির্দেশে তার অনুসারি বরিশাল উত্তর জেলা কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিব মিজানুর রহমান মুকুল মূল বিএনপির নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে যে কমিটি ঘোষনা করেছে তা বাতিল করার কোন বিকল্প নাই। ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান বলেন, জহীর উদ্দিন্ স্বপনের ষড়যন্ত্রের কারণেই ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হয়েছে। সে সব সময় বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকেন। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জহির উদ্দিন স্বপনকে মনোনয়ন দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে গৌরনদীর কয়েকটি ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি সম্পাদকসহ প্রায় ৫ হাজার বিএনপি নেতাকর্মী আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। কেন্দ্রীয় সদস্য ও জাতীয়তাবাদি আইনজীবি ফোরামের সুপ্রীম কোর্ট শাখার সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম স্বজল ও যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান দুলালও একই ধরনের বক্তব্য রাখেন।

এ সময় জহীর উদ্দিন স্বপনের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ক্ষুব্ধ নেতাকর্মী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু জহীর উদ্দিন স্বপনকে বক্তব্য দিতে অনুরোধ করলে স্বপন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইসচেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার মাঠ পর্যায়ের নির্যাতিত নেতাকর্মীরা স্বপনের সামনেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। ক্ষোভ ও দাবির কথা বলেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দলীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে কথা বলে গৌরনদীর কেন্দ্রীয় চার নেতার সঙ্গে সমন্বয় করে কমিটি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা হবে।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017
Developed By

Shipon