আজ শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন

Logo
শিরোনামঃ
বিএমএসএফ’র বাহরাইন শাখার নতুন কমিটি অপচিকিৎসার অভিযোগ করায় প্রাণনাশের হুমকি! গৌরীপুরে বিএমএসফ’র উদ্যোগে মহান শহিদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন গৌরনদীতে শ্রদ্ধা-ভালবাসায় ভাষা শহিদদের স্মরণ সাংবাদিক মনজুরুল নিহতের ৬ দিন পর মামলা, বিএমএসএফ’র ন্যায় বিচার দাবি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন আজ মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বরিশালে ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলেদের বিক্ষোভ সমাবেশ নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার দাবীতে মানববন্ধন
পবিত্র মাহে রমজানের দ্বিতীয় দশক ‘মাগফিরাত’ শুরু

পবিত্র মাহে রমজানের দ্বিতীয় দশক ‘মাগফিরাত’ শুরু

পবিত্র মাহে রমজানের দ্বিতীয় দশক ‘মাগফিরাত’ শুরু

 

পবিত্র মাহে রমজানের দ্বিতীয় দশক ‘মাগফিরাত’ শুরু

পল্লী জনপদ ডেস্ক॥

পবিত্র মাহে রমজান ইবাদতের বসন্তকাল। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত এই তিন দশক নিয়ে সংযম ও ধৈর্য্য, নৈতিক প্রশিক্ষণ ও আত্মশুদ্ধির বার্তা নিয়ে মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের ফরজ হুকুম পালনে প্রতিবছরই মহিমান্বিত মাস মাহে রমজান আসে মুমিনের দুয়ারে। পবিত্র কুরআন নাজিলের কারণে রমজান হয়েছে সর্বশ্রেষ্ট।

আজ থেকে শুরু হয়েছে মাগফিরাতের দশক। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার দ্বিতীয় ১০ দিনকে বলা হয় মাগফিরাতের দশক। অর্থাৎ ১১ থেকে ২০ রোজা পর্যন্ত মাগফিরাত; যার অর্থ ক্ষমা।

গত ২৪ মার্চ (শুক্রবার) হতে শুরু হয় মাহে রমজান প্রথম দশক রহমত। রবিবার (২ এপ্রিল) সেহরী ও ইফতারের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দশক। একই সাথে রবিবার তারাবিহ্ নামাযে এর মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে রমজানের দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের প্রথম দিন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘রমজানের প্রথম ১০ দিন রহমতের, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত লাভের এবং তৃতীয় ১০ দিন জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের।’ (মিশকাত)

এই মাসে যখন একজন রোজাদার সারা বছরের নেকি ও পুণ্যের ঘাটতি পূরণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা-সাধনা চালিয়ে যান এবং মাগফিরাতের ১০ দিনও অতিবাহিত করেন, তখন আল্লাহ তার গুনাহ-খাতা মাফ করে দেন। মাহে রমজানের প্রতি দিন-রাতেই অনেক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং দোয়া কবুল হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মাহে রমজানের প্রতি রাতেই একজন ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকেন- ‘হে পুণ্য অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে পাপাচারী! থামো, চোখ খোলো।’

তিনি আবার ঘোষণা করেন, ‘ক্ষমাপ্রার্থীকে ক্ষমা করা হবে। অনুতপ্তের অনুতাপ গ্রহণ করা হবে। প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কবুল করা হবে।’
এ মাসে আল্লাহর দরবারে মাগফিরাত কামনা করলে, গরিব-দুঃখীদের প্রতি দান-সদকার পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে, নিজে সব ধরনের খারাপ কাজ পরিহার করলে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া-ইস্তেগফার করলে, মহান আল্লাহ তা অবশ্যই কবুল করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘এই মাসে চারটি কাজ অবশ্য করণীয়। দুটি কাজ এমন যে তার দ্বারা তোমাদের প্রতিপালক সন্তুষ্ট হন। অবশিষ্ট দুটি এমন, যা ছাড়া তোমাদের কোনো গত্যন্তর নেই। এই চারটির মধ্যে একটি হলো কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করা, দ্বিতীয়টি হলো অধিক পরিমাণে ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা। এই দুটি কাজ আল্লাহর দরবারে অতি পছন্দনীয়। তৃতীয় ও চতুর্থ হলো জান্নাত লাভের আশা করা ও জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণের প্রার্থনা করা। এই দুটি এমন বিষয়, যা তোমাদের জন্য একান্ত প্রয়োজন।’ (ইবনে খুজাইমা)

মাতৃগর্ভ থেকে মানুষ যেভাবে নিষ্পাপ অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়, মাহে রমজানের ৩০ দিন যথাযথভাবে রোজা পালন করলে তেমন নিষ্কলুষ হয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এসব মুমিন বান্দার মাগফিরাত ও নাজাতপ্রাপ্তি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যারা রমজানের চাঁদের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত রোজা রেখেছে, তারা সেদিনের মতোই নিষ্পাপ হয়ে যাবে, যেদিন তাদের মাতা তাদের নিষ্পাপ রূপে জন্ম দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়ে নিষ্পাপ হতে পারল না, তার মতো হতভাগ্য এই জগতে আর কেউ নেই।’ সিয়াম সাধনার মধ্যে কোনো রকম ভুলত্রুটি হয়ে গেলে তৎক্ষণাৎ তারা তাওবা ও ইস্তেগফার করে নিজেদের সংশোধন করে নেওয়া দরকার। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তিনিই (আল্লাহ) তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা শুরা : আয়াত ১৫)

রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘এ মাসে চারটি কাজ অবশ্যকরণীয়। দুটি কাজ এমন যে, তার দ্বারা তোমাদের প্রতিপালক সন্তুষ্ট হন। অবশিষ্ট দুটি এমন, যা ছাড়া তোমাদের কোনো গত্যন্তর নেই। এই চারটি একটি কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করা, দ্বিতীয়টি অধিক পরিমাণে ইস্তেগফার বা ক্ষমা চাওয়া। এ দুটি কাজ আল্লাহর দরবারে অতি পছন্দনীয়… (ইবনে খুজাইমা)

অতএব মুমিন বান্দাদের উচিত, মাগফিরাতের দশকটি আমল-ইবাদত, প্রার্থনা-মুনাজাতে কাটিয়ে আল্লাহ তায়ালার ক্ষমা লাভে ধন্য হওয়া। পাশাপাশি চলমান বৈশ্বিক করোনা মহামারি থেকে বিশ্ব মানবতার মুক্তির জন্য কায়মনোবাক্যে দোয়া করা। কারণ, আজকের আলোচনা থেকেই আমরা জানতে পারলাম, মাহে রমজান দোয়া কবুলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময়।

তাই আসুন, রমজানের মাগফিরাতের এই দশ দিনে নামাজ, দোয়া, দান-সদকা, এবাদত-বন্দেগি করে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চাই। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের বেশি বেশি ভালো কাজ করার তাওফিক দান করুন এবং সব ধরনের আমল-ইবাদত ও দোয়া-মুনাজাত কবুল করুন। ছুম্মা আমিন।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017
Developed By

Shipon