আজ শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন

Logo
শিরোনামঃ
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের উড়িয়ে টাইগারদের অবিস্মরণীয় জয়

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের উড়িয়ে টাইগারদের অবিস্মরণীয় জয়

 

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের উড়িয়ে টাইগারদের অবিস্মরণীয় জয়

পল্লী জনপদ ডেস্ক॥

টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে চার উইকেট হারালো বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম ম্যাচে ৬ উইকেটের জয়ে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল সাকিব আল হাসানের দল। এবার ১ ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে লাল সবুজের দল। টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ইংল্যান্ড ১১৭ রানে অলআউট হয়। রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। এক পাশে শান্ত দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। তৃতীয় ওভারে ব্যাটিংয়ে এসে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ১৯তম ওভারে। ৪৭ বলে ৪৬ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এর আগে প্রথম ম্যাচেও তার ফিফটিতে ভর করে জিতে বাংলাদেশ। এ ছাড়া মিরাজ ২০ ও হৃদয় ১৭ রান করেন। আর কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের মুখ দেখেননি। শান্তর সঙ্গে তাসকিন অপরাজিত থাকেন ৮ রানে। জর্ডানকে মারা তার টানা দুই চারে জয় সূচক রান আসে। ইংলিশদের হয়ে আর্চার ১৩ রানে ৩ উইকেট নেন। এটি তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেরা বোলিং।

অযথা ব্যাট চালাতে গিয়ে আফিফ কাটা পড়েন আর্চারের গতিতে। একটি স্ট্যাম্প উপড়ে যায়। বেল চলে আসে থার্ডম্যান অঞ্চলে বাউন্ডারির পাশে। ৩ বলে ২ রান করেন তিনি। ক্রিজে শান্তর সঙ্গী তাসকিন।

শান্তর সঙ্গে জুটি গড়ে জয় এনে দিতে পারেননি সাকিব আল হাসান। ৩ বল খেলে শূন্য রানে বিদায় নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। মঈন আলীকে লং অফে উড়িয়ে মারতে গিয়ে জর্ডানের হাতে ধরা পড়েন সাকিব। বাংলাদেশের ভরস এখন শান্ত-আফিফের ব্যাট। এক পাশে শান্ত আগলে রেখে খেলার চেষ্টা করছেন। ক্রিজে আসা আফিফ কোনো ঝুঁকি না নিলেই সহজে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ৩০ বলে মাত্র ২৩ রান। হাতে আছে ৭ উইকেট। হৃদয় আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন মিরাজ। শান্তর সঙ্গে জুটিতে খেলছেন দারুন। হাঁকাচ্ছেন বাউন্ডারি। শান্ত এক প্রান্ত আগলে রেখে দেখে শুনে খেলার চেষ্টা করছেন। আদিল রশিদের একটি বল তার পায়ে লাগলে সাড়া দেননি আম্পায়ার। রিভিউ নেয় ইংল্যান্ড তবে কাজে লাগেনি। দুজনের জুটি থেকে এখন পর্যন্ত আসে ২৮ বলে ৩৯ রান।

আগের ওভারে আদিল রশিদকে দুটি চার মেরেছিলেন তৌহিদ হৃদয়। সময় নিয়ে ক্রিজে থিতু হয়ে দুই চার মেরে হাত খোলার আভাস দেন হৃদয়। কিন্তু পারলেন না বেশিদূর যেতে। টি-টোয়েন্টিতে আজই অভিষেক হওয়া রেহান তাকে ফেরান নিজের দ্বিতীয় বলে। সরাসরি পয়েন্টে ওকসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন এই ব্যাটসম্যান। ১৮ বলে ২ চারে ১৭ রান করেন হৃদয়। তার আউটে ভেঙে যায় ৩১ বলে ২৯ রানের জুটি। ক্রিজে শান্তর সঙ্গী মিরাজ। ব্যাটিংয়ে নামেননি সাকিব।

লিটন আউটের এক ওভার পরেই সাজঘরে ফেরেন রনি তালুকদার। মিড অনে দাঁড়ানো ফিল্ডারের মাথার উপর দিয়ে আর্চারকে মারতে চেয়েছিলেন রনি, ব্যাটে বলে এক হয়নি। সহজেই ক্যাচ ধরেন মঈন আলী। ১৪ বলে ৯ রান করে ফেরেন এই ওপেনার। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে রনির উইকেট চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশকে। পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৩২ রান। ক্রিজে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গী তৌহিদ হৃদয়। দুজনে ধাক্কা সামলে প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারে উইকেট হারালো বাংলাদেশ। স্যাম কারানকে অযথা পুল করে ছয় হাঁকাতে গিয়ে স্কয়ার লেগে সল্টের হাতে ধরা পড়েন লিটন দাস। ১ চারে ৯ বলে ৯ রান করেন লিটন। ১৬ রানে প্রথম উইকেট হারালো বাংলাদেশ। ক্রিজে রনি তালুকদারের সঙ্গী নাজমুল হোসেন শান্ত।

পাওয়ার প্লেতে বড় সংগ্রহের আভাস দিলেও ইংল্যান্ড পারেনি শেষ পর্যন্ত। মিরাজদের ঘূর্ণি জাদুতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ১১৭ রানে অলআউট হয়। টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে মিরপুরের স্লো উইকেটে দাঁড়াতেই পারেনি ইংলিশরা। পাওয়ার প্লে পর্যন্ত সব ঠিক ছিল তাদের। ১ উইকেটে স্কোরবোর্ডে যোগ করে ৫০ রান। এরপরই যেন পতনের শুরু। সাকিব-হাসান-মিরাজ টানা তিন ওভারে ৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নাটাই নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। এরপর ডাকেট-কারন জুটি গড়ে চেষ্টা করছিলেন প্রতিরোধের। দুজনের ৩২ বলে ৩৪ রানের জুটি ভেঙে দেন মিরাজ। সর্বোচ্চ ২৮ রান করেন ডাকেট। এ ছাড়া ফিল সল্ট ২৫, মঈন আলী ১৫ ও কারান ১২ রান করেন। আর কেউ দুই অঙ্কের মুখ দেখেননি।

শেষ ওভারের প্রথম বলে ডাকেটকে ফেরান মোস্তাফিজ। এই ওভারে আরও দুটি রানআউট করে অলআউট করে দেয় বাংলাদেশ। মিরাজ ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন এই ম্যাচে। ১২ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। এর আগে ১৭ রানে ৩ উইকেট ছিল ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। এ ছাড়া বাংলাদেশের হয়ে ১টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, সাকিব আল হাসান ও হাসান মাহমুদ।

মিরাজ একাই মাত্র ১২ রান দিয়ে নেন চার উইকেট। নিজের শেষ ওভারের শেষ বলে ফেরান জর্দানকে। এর আগে ফেরান মঈন আলী, কারান ও ওকসকে। এটি মিরাজের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। গত বিশ্বকাপে ১৭ রানে তিন উইকেট ছিল মিরাজের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। চট্টগ্রামে একাদশে সুযোগ না পেলেও ঢাকায় জায়গা পেয়েই কাজে লাগালেন এই স্পিনার। তার ঘূর্ণিতে রীতিমত কাঁপছে ইংল্যান্ড। ১০০ রান করতে দলটি খেলে ১৬.৫ ওভার, হারায় ৭ উইকেট।

১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মিরাজকে এগিয়ে এসে মারতে চেয়েছিলেন কারান। ওয়াইড লেন্থে বল দিয়ে কারানকে ফাঁকি দেন মিরাজ। উইকেটের পেছনে থাকা লিটন দ্রুত ভেঙে দেন উইকেট। ৭ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারানোর পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন কারান-ডাকেট। কারানকে ১২ রানে ফিরিয়ে ভেঙে দেন জুটি। এরপর ক্রিজে এসে এক বল খেলেই সাজঘরে ফেরেন ওকস। তিনিও এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন। শূন্য রানে ফেরেন ওকস। তিন বলের ব্যবধানে ২ উইকেট নিলেন মিরাজ।

এবার মিরাজ। ফেরালেন মঈন আলীকে। শেষ বলে সুইপ করতে চেয়েছিলেন, ডিপ মিড উইকেটে ধরা পড়েন শামীম পাটোয়ারির (বদলি ফিল্ডার) হাতে। পাওয়ার প্লের পর টানা তিন ওভারে সাকিব-হাসান-মিরাজ নিলেন ৩ উইকেট। তিন জনেরই এটি প্রথম ওভার ছিল। এ সময় মাত্র ৭ রান দিয়েছেন স্বাগতিক বোলাররা। ১৬ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু এই তিন ওভারে তিন উইকেট নিয়ে সফরকারীদের চেপে ধরে স্বাগতিকরা। ব্যাটিং করছেন ডাকেট-স্যাম কারান।

সাকিবের পরে বোলিংয়ে আসেন হাসান। শেষ বলে ভেঙে দেন ইংলিশ অধিনায়ক বাটলারের উইকেট। প্রথম ম্যাচেও তাকে ফিরিয়েছিলেন হাসান। এবার তার ইয়র্কার বুঝতেই পারেননি বাটলার, বল আঘাত করে সরাসরি উইকেটে। ৪ রানে ফিরলেন বাটলার।

সপ্তম ওভারে বোলিংয়ে আসেন সাকিব। প্রথম দুই বল ডট দেন সল্ট। হাল্কা বাউন্স করা তৃতীয় বলে সাকিবের হাতেই তুলে দেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। দারুণ দক্ষতার ক্যাচ ধরেই সাকিব বল ছুঁড়ে মারেন আকাশে। পাওয়ার প্লের পর প্রথম ওভারেই সাকিব এনে দেন ব্রেক থ্রু। ১৯ বলে ২৫ রান করেন সল্ট।

ফিল সল্টের সঙ্গে ওপেনিংয়ে আসার কথা জস বাটলাররের। কিন্তু না, মিরপুরে ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশন ঠিক রাখতে সল্টের সঙ্গী হন মালান। ৮ বলে ৫ রান করে তাসকিবের শিকার হয়ে মালান ফিরলে ব্যাটিংয়ে আসেন মঈন আলী। দুজনে কোনো ক্ষতি ছাড়াই পাওয়ার প্লে কাটিয়ে দেন। শেষ ওভারে নাসুমকে এক ছক্কা এক চারে নেন ১৩ রান। পাওয়ার প্লেতে তাদের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৫০ রান।

তৃতীয় ওভারে বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন তাসকিন। প্রথম বল মালানের ব্যাটের পাশ দিয়ে যায়, অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন। দ্বিতীয় লেগ সাইডে খেলতে চেয়েছিলেন, টাইমিংয়ে গড়বড় হওয়ায় বল চলে যায় ডিপ থার্ডম্যান অঞ্চলে। সহজেই ক্যাচ নেন হাসান মাহমুদ। ৮ বলে ৫ রান করে ফিরলেন মালান। ক্রিজে ফিল সল্টের সঙ্গী মঈন আলী।

টস :

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার (১২ মার্চ) সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড। এই ম্যাচে টস জিতে বোলিং নিয়েছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে ইংল্যান্ড সিরিজের প্রত্যেকটি ম্যাচেই টস জিতেছে বাংলাদেশ।

চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের জয়ী একাদশ ভেঙে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে নেমেছে বাংলাদেশ। উইকেট বিবেচনায় একাদশে শামীম পাটোয়ারির জায়গায় এসেছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। বাংলাদেশ একাদশে তিন পেসার ও তিন স্পিনার।

একদাশে যারা :

সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), রনি তালুকদার, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাশ, আফিফ হোসেন, তৌহিদ হৃদয়, মেহেদি হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।

ইংল্যান্ড দল নেমেছে এক পেসার কম নিয়ে। মার্ক উডের পরিবর্তে একাদশে এসেছেন লেগ স্পিনার রেহান আহমেদ। ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হলো রেহানের।

একাদশে যারা, জস বাটলার ( অধিনায়ক), ফিল সল্ট, ডেবিড মালান, বেন ডাকেট, মঈন আলী, স‌্যাম কারান, জোফরা আর্চার, আদিল রশিদ, ক্রিস জর্ডান, ক্রিস ওকস ও রেহান আহমেদ

তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ম্যাচে সাগরিকার পাড়ে দাপুটে জয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে ১-০ ব্যবধানে। বিকেল ৩টার এই ম্যাচে লাল সবুজের দল জিতলেই হবে ইতিহাস, টি-টোয়েন্টিতে প্রথম জয়ের পর প্রথম সিরিজ জয়ের ইতিহাস।

ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ টি-টোয়েন্টিতে মোস্তাফিজুর রহমানের উইকেট ৯৮টি। আজ ২ উইকেট নিলেই পূর্ণ হবে উইকেটের সেঞ্চুরি।

স্বাগতিক শিবিরে সিরিজ জয় নিয়ে বিশ্বাস শতভাগ। সংবাদ সম্মেলনে বেশ কয়েকবার সিরিজ জেতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে হাসান মাহমুদ প্রতিবারই দিয়েছেন আত্মবিশ্বাস। ‘আমরা ইনশাআল্লাহ্ সিরিজ জিতব। মোমেন্টাম যেহেতু আমাদের দিকে আছে, ইনশাআল্লাহ্ ভালো কিছু হবে। অধিনায়ক আমাদের সাহস দিচ্ছেন। আমরা তরুণ আছি সবাই। সব কিছু মিলে ঠিকঠাক চলছে।’

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির আগে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা তরুণ পেসার হাসান মাহমুদতো বলেই দিলেন, এই টি-টোয়েন্টি দল এক ঝাঁক সেরা খেলোয়াড় নিয়ে গড়া।

‘এই মুহূর্তে আমাদের যে টি-টোয়েন্টি দলটা আছে, আমি মনে করি বেস্ট বাঞ্চ অব প্লেয়ার্স। সবাই খুবই দুর্দান্ত এবং মাঠে শেষ পর্যন্ত খুবই এফোর্ট দেয়। এটা যদি আমরা ধরে রাখতে পারি, এই ব্যাচটাকে এগিয়ে নিতে পারি, আমার মনে হয় ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি; যে কোনো ফরম্যাটে আমরা এগিয়ে থাকব।’

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017
Developed By

Shipon