আজ রবিবার, ২৩ Jun ২০২৪, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন

Logo
সকল মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে

সকল মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে

 

সকল মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে

পল্লী জনপদ ডেস্ক॥

মহান আল্লাহপাক মানুষকে অজস্র অগনিত নেয়ামত দান করেছেন। মানুষ জীবনভর আল্লাহর দেয়া নেয়ামত উপভোগ করে চলেছে। আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত শেষ বিচারের দিন সে সকল নেয়ামত সম্পর্কে তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন। আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে : তারপর অবশ্যই সেদিন (শেষ বিচারের দিন) তোমাদেরকে নেয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। (সূরা আত্ তাকাছুর : ৮)। অর্থাৎ তোমরা সবাই শেষ বিচারের দিন আল্লাহপাক প্রদত্ত নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে যে, সেগুলোর শোকর ও কৃতজ্ঞতা আদায় করেছ কিনা? সেগুলোর হক আদায় করেছ কিনা? নাকি সে সকল নেয়ামত পাপ কাজে ব্যয় করেছ? এই জিজ্ঞাসাবাদ কেবল কাফেরদেরই করা হবে না, বরং সৎ মুমিনদেরও করা হবে।

আর আল্লাহপাক মানুষকে যে নেয়ামতরাজি দান করেছেন, সেগুলো সীমা-সংখ্যাহীন। সেগুলো গণনা করা সম্ভব নয়। বরং এমন অনেক নেয়ামত ও আছে যেগুলোর সম্পর্কে মানুষ কোনো খবরই রাখে না। এতদপ্রসঙ্গে আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে : যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামত রাজি গণনা করতে থাক, তাহলে সেগুলো পুরোপুরি গণনা করতে পারবে না। (সূরা ইবরাহীম : ৩৪)।

বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মাদ মোস্তাফা আহমাদ মুজতাবা (সা.) বলেছেন : শেষ বিচারের দিন প্রথম যে নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে তা হচ্ছে, আমি কি তোমাকে শারীরিকভাবে সুস্থ করিনি? আমি কি তোমাকে সুপেয় পানি পান করাইনি? (জামে তিরমিজী : ৩৩৫৮)। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : আল্লাহ তা’য়ালা শেষ বিচারের দিন বলবেন, হে আদমসন্তান! আমি (দুনিয়ায়) তোমাকে ঘোড়া ও উটে বহন করিয়েছি। তোমার জন্য স্ত্রীর ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তোমার ঘুরাফেরা ও নেতৃত্ব করার সুযোগ করে দিয়েছি, এগুলোর কৃতজ্ঞা কোথায়? (সহীহ মুসলিম : ২৯৬৮)।

আল কুরআনে আল্লাহ প্রদত্ত বহুবিধ নেয়ামতের উদাহরণ দেয়া হয়েছে। যেমন ইরশাদ হয়েছে : নিশ্চয় কান, চোখ, হৃদয় এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে। (সূরা বণী ই¯্রাঈল : ৩৬)। এতে মানুষের শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও হৃদয় সম্পর্কিত লাখো নেয়ামত অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, সেগুলো মানুষ প্রতি মুহূর্তে ব্যবহার করে। বিভিন্ন হাদীসেও নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হওয়ার কথা সুস্পষ্টভাবে এসেছে। যেমন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : দু’টি নেয়ামত এমন আছে যাতে অধিকাংশ মানুষই ঠক খায় বা ধোঁকায় নিপতিত হয়। তার একটি হলো স্বাস্থ্য এবং অপরটি হলো অবসর সময়। (সহীহ বুখারী : ৬৪১২)।

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে : একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) ক্ষুধায় কাতর হয়ে গৃহ হতে বের হলেন। পথে আবু বকর (রা.) ও উমর (রা.) ও বের হলেন। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন : তোমরা কেন বের হয়েছ? তাঁরা বলল, ক্ষুধার কারণে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ! আমিও সে কারণেই বের হয়েছি। তারপর তিনি বললেন, চলো? তাঁরা সবাই এক আনসারীর বাড়িতে আগমন করলেন। আনসারী লোকটির স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সঙ্গীদ্বয়কে দেখে যারপরনাই খুশি ও আনন্দিত হয়ে শুভেচ্ছা ও স্বাগতম জানানোর মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানালেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন : অমুক কোথায়? স্ত্রী লোকটি জানালো যে, সে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে গেছে। ইত্যবসরে আনসারী লোকটি গৃহে প্রত্যাবর্তন করে তাঁদেরকে সাদর সম্ভাষণ জানিয়ে বললেন, আলহামদুলিল্লাহ! আজ কেউ আমার মতো মেহমান পাবে না। তাঁরা বসলে সে তাঁদের জন্য এক কাঁদি খেজুর নিয়ে আসলো, যাতে কাঁচা-পাকা আধাপাকা, ভালো-মন্দ সব ধরনের খেজুরই ছিল। তারপর আনসারী লোকটি ছুরি নিয়ে দৌঁড়াল। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, সাবধান! দুধ দেয় এমন ছাগল জবাই করো না। আনসারী তাঁদের জন্য জবাই করলে, তাঁরা ছাগলের গোশত খেলেন, খেজুর গ্রহণ করলেন, পানি পান করলেন।

তারপর যখন পরিতৃপ্ত হলেন তখন রাসূলুল্লাহ (সা.), আবু বকর ও উমর (রা.) কে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা শেষ বিচারের দিন এ সমস্ত নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। তোমাদেরকে ক্ষুধা তোমাদের গৃহ হতে বের করল, তারপর তোমরা এতসব নেয়ামত ভোগ করার পর প্রত্যাবর্তন করলে। (সহীহ মুসলিম : ২০৩৮)। -ইনকিলাব

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017
Developed By

Shipon