আজ সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন

Logo
সরকার পতনে আবার সপ্তাহের শেষ দুইদিন অবরোধ আসছে

সরকার পতনে আবার সপ্তাহের শেষ দুইদিন অবরোধ আসছে

সরকার পতনে আবার সপ্তাহের শেষ দুইদিন অবরোধ আসছে

পল্লী জনপদ ডেস্ক॥

সরকার পতনের এক দফা দাবি আদায়ে ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক অবরোধ চলছে।মঙ্গলবার (০৭ নভেম্বর, ২০২৩) ভোর ৬টায় এটি শেষ হবে। এর আগে একই দাবিতে টানা ৭২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি-জামায়াত। তবে চলমান ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ শেষে নতুন কি কর্মসূচি আসছে তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে বিএনপি শিবিরে। জানা গেছে, একদিন বিরতি দিয়ে সপ্তাহের শেষ দুইদিন বুধ ও বৃহস্পতিবার আবার অবরোধ কর্মসূচি দেয়া হবে।

দলগুলো বলছে, অবরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনের (সোমবার) পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী কর্মসূচি দেয়া হবে। যদি ভিন্ন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব না হয়, তাহলে মঙ্গলবার বিরতি দিয়ে বুধবার ও বৃহস্পতিবার অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত রয়েছে। সোমবার দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটি এবং গণতন্ত্র মঞ্চের বৈঠক আছে। সেখানে কর্মসূচির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আগামীদিনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। এক দফা দাবি আদায়ে এবার লাগাতার হরতাল-অবরোধের কর্মসূচির চিন্তা করছে দলটি।
এদিকে, ২৯ অক্টোবরের হরতাল কর্মসূচি চলাকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গুলশানের বাসা থেকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এছাড়া দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসায় বাসায় তল্লাশি চালায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

এ অবস্থায় চলমান যুগপৎ আন্দোলনে ভাটা না পড়ে সে জন্য কঠোর কর্মসূচির নিয়ে দলটির অভ্যন্তরে আলাপ আলোচনা চলছে। তাছাড়া ফখরুলের অনুপস্থিতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে কে দায়িত্ব পালন করবে সেটা নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ।

বিএনপির দলীয় সূত্র জানিয়েছে, মির্জা ফখরুল আটক হওয়ার পরই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের আলোচনায় আসে কয়েকজনের নাম। তাদের মধ্যে রিজভী ছাড়াও কূটনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নাম আলোচনায় রয়েছে। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আবদুল মঈন খানও আছেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার আলোচনায়।

বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, আগামী দিনে সরকার পতনের এক দফার কর্মসূচি হিসেবে সারাদেশে হরতাল বা অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে। সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি।

এদিকে, বিএনপি মহাসচিবকে আটকের পর ঢাকায় দলটির কেন্দ্রীয় আরও অনেক নেতার বাসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি চালায়।

এসব পরিস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিযুক্ত করার বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক থেকে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে টানা হরতাল বা অবরোধের কথা উঠে এসেছে।

বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক দল বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামীকাল আমরা বসে পরবর্তী কর্মসূচি কী দেয়া যায় তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।

গণতন্ত্র মঞ্চের একটি দলের শীর্ষ এক নেতা বলছেন, মঙ্গলবার কর্মসূচি না রাখার সিদ্ধান্ত রয়েছে। কারণ সপ্তাহে একদিন মানুষ যাতে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে পারে সেজন্য বিরতি দেয়া হবে। তবে, বুধ ও বৃহস্পতিবার অবরোধ কর্সসূচি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।

মঞ্চের সূত্রগুলো বলছে, সোমবার গণতন্ত্র মঞ্চের সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সেখানে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা স্থগিত রাখতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানানো হবে। কারণ নির্বাচন কমিশন নিজেই শনিবার (০৪ নভেম্বর) রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বলেছেন- নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূলে নেই। যা বিরোধী দলগুলো প্রতিনয়িত বলে আসছে। এর বাইরে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া দেয়া হবে সংবাদ সম্মেলন থেকে।

বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিলকে সামনে রেখে আগামী সপ্তাহে ঢাকায় বড় ধরনের কর্মসূচি পালন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত রয়েছে। রাজধানীতে আবার বড় ধরনের শো-ডাউন করারও পরিকল্পনা রয়েছে। তার আগে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে।

নামপ্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তার করে সরকার ভাবছে আন্দোলন বন্ধ হয়ে যাবে। বাস্তবে তা এবার হবে না। কারণ প্রথম সারির নেতারা গ্রেপ্তার হলে দ্বিতীয় সারির নেতারা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবে, সেটা আগেই সিদ্ধান্ত নেয়া আছে। এরপর প্রয়োজনে তৃণমূল থেকে আন্দোলনের নেতৃত্বে দেওয়া হবে। তারপরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।

‘কিন্তু আন্দোলন করতে গিয়ে এরইমধ্যে সিনিয়র নেতাদের বাইরে তৃণমূলের অনেক নেতা কারাগারে গিয়েছে। এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে কতদিন আন্দোলন চালিয়ে নেওয়া যাবে, সেটা নিয়ে একটা সন্দেহ তো থাকেই’, বলেন বিএনপির ওই নেতা।

রোববার এক সংবাদ বিবৃতিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ধারাবাহিকভাবে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে প্রচণ্ড ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে এবং জনগণ আরও বলীয়ান হচ্ছে। বর্তমান সরকারের পদত্যাগসহ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা বাস্তবায়ন ছাড়া জনগণ ঘরে ফিরে যাবে না।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017
Developed By

Shipon