আজ রবিবার, ২৩ Jun ২০২৪, ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন

Logo
সারাদেশে “হাতপাখায়” হুহু করে ভোট বাড়ছে

সারাদেশে “হাতপাখায়” হুহু করে ভোট বাড়ছে

সারাদেশে “হাতপাখায়” হুহু করে ভোট বাড়ছে

 

সারাদেশে “হাতপাখায়” হুহু করে ভোট বাড়ছে

বিশেষ প্রতিবেদক ॥

সারাদেশে মানুষের মাঝে বিশ্বাস, আস্থা, ভালবাসা ও মূল্যায়ন দিনদিন বাড়ছে “হাতপাখা” প্রতীকের। বাড়ছে জনসমর্থন, বাড়ছে ভোট। বৃহস্পতিবার (২৫ মে) অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তার বাস্তব প্রমাণ। যেখানে হাতপাখা প্রতীক পেয়েছে ৪৫,৩৫২ ভোট। যা ২০১৮ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের মা জায়েদা খাতুন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আছমত উল্লাহ খান পেয়েছেন ২ লাখ ২২ হাজার ৭৬৭ ভোট। নৌকা এবং ঘড়ি মিলে ৪ লক্ষ ৬১ হাজার ৬৭১ ভোট পেয়েছে।

সুশীল সমাজের ধারণা, বিএনপি নির্বাচন বয়কট করলেও হয়তোবা সাধারণ কর্মিরা ভোট দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে ‘নৌকা’ হারাতে জামায়াতও ভোটের মাঠে ছিল সরব। এদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ‘হাতপাখা’ প্রতীক যে ৪৫,৩৫২ ভোট পেয়েছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তাদের এতো মুরিদ নেই। তারা মুরিদের বাইরেও অনেক ভোট পেয়েছে। মনে হচ্ছে- ভোটের মাঠে তাদের ‘জয়জয়কার’।

জানা গেছে, এ বছর হাতপাখা প্রতীক নিয়ে এক ডজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। যা আগের তুলনায় তিন গুণ। আবার প্রত্যেক সিটিতে পূর্বের তুলনায় এক তৃতীয়াংশ ভোট বেশি পেয়েছে।

এদিকে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শুক্রবার (২৬ মে) বাদ জুমা আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতীক বরাদ্দের পরই লিফলেট বিতরণ শুরু করেছে হাতপাখা প্রতীকের কর্মি-সমর্থকরা। দুপুর দুইটার পরপরই বরিশাল নগরীতে বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত দৃষ্টিনন্দন মাইকিং শুরু হয়েছে। যা জনগণের মন আকৃষ্ট করছে।

আগামী ১২ জুন অনুষ্ঠিতব্য বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ০৭ জন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশগ্রহণ করছেন। যারা হলেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম শায়েখে চরমোনাই, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোঃ ইকবাল হোসেন তাপস, সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ আসাদুজ্জামান, জাকের পার্টির প্রার্থী মিজানুর রহমান বাচ্চু, স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান ও আলী হোসেন প্রমুখ।

প্রতীক বরাদ্দের সাথে সাথেই সুশীল সমাজসহ নগরীর সাধারণ ভোটারগণ হিসেব-নিকেশ কষতে শুরু করেছে। বরিশালে বিএনপির রয়েছে ভোট ব্যাংক। তারা নির্বাচনে আসছে না। আবার সুশীল সমাজ মনে করছে, আওয়ামী লীগে রয়েছে বিভক্তি। তা নিরসন করতে না পারলে গাজীপুরের মত অবস্থা হতে পারে। জাপায় রয়েছে ত্রি-বিভক্তি। জামায়েতের কোন প্রার্থী নেই। সেক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখায় কোন বিভক্তি নেই। শায়েখে চরমোনাই উচ্চ শিক্ষিত এবং ক্লিন ইমেজের লোক। তিনি জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছতে পারলে ক্রমেই তাদের ভোটের হার বাড়তে থাকবে- এমনটাই ধারণা অভিজ্ঞ মহলের।

স্থানীয় গণমানুষের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, প্রার্থীদের মধ্যে হেভিওয়েট হচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকের কর্ণধর আলহাজ মাওলানা মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়েখে চরমোনাই। যার দাদা মরহুম সৈয়দ মুহাম্মাদ এছহাক (রহ.) ইসলামের খেদমত করে গেছেন। তার বাবা মরহুম সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম (রহ.) তিনি আমৃত্যু ইসলামের খেদমত করে গেছেন। তার আপন বড় ভাই আলহাজ মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই। তিনি বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র নায়েবে আমীরের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তারা সাত ভাই সবাই উচ্চ শিক্ষিত এবং ইসলামের খেদমতে নিয়োজিত আছেন।

নির্বাচন ব্যাপারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের বিসিসির মেয়রপ্রার্থী মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শায়েখে চরমোনাই বলেন, বরিশাল নগরীতে ময়লা-আবর্জনার অব্যবস্থাপনার কারণে বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে আশেপাশের পরিবেশে দূষণ ছড়াচ্ছে। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। আমি বিজয়ী হলে ময়লা ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ রোধ করার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো, ইনশাআল্লাহ।

নির্বাচনী লিফলেট-এ শায়েখে চরমোনাই’র দুটি কথা :
বরিশালের মাটিতে আমার জন্ম। আমার পিতা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম রহ. এবং দাদা সৈয়দ মুহাম্মাদ এছহাক রহ. চরমোনাই মরহুম পীর সাহেবদ্বয়কে আপনারা চিনেন এবং জানেন। এতদাঞ্চলে আমাদের পরিবারের খেদমত সম্পর্কেও আপনারা অবগত আছেন।

আসন্ন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আপনাদের সরাসরি খেদমত করার সুযোগ এসেছে। বরিশালের সার্বিক উন্নয়নে আমার একটা ‘ভিশন ও মিশন’ আছে; যা সফলভাবে বাস্তবায়নের চাবিকাঠি আপনাদের হাতে। আমি আপনাদের সহযোগিতায় মেয়র নির্বাচিত হলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন তথা নাগরিকদের উন্নত সুবিধা প্রদান করতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাবো, ইন্শাআল্লাহ।

এখানে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দূর করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। শহরকে দৃষ্টিনন্দন করতে পর্যাপ্ত বাজে বরাদ্দ করে তা সুচারুরূপে ব্যয় করা হবে। এ নগরীতে খুন-খারাবি, মাদক-সন্ত্রাস, দুর্নীতি-দুঃশাসন ও বেকারত্বের অভিশাপ থাকবে না, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরো বলেন- আমি মেয়র নয়, জনগণের খাদেম হতে চাই। আপনারা ইতোপূর্বেকার মেয়রদের কার্যকলাপ দেখেছেন। প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা না করার অভ্যাস আমার মাঝে নেই। আমি যা ওয়াদা করবো, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে সচেষ্ট থাকবো। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন পরিচালনা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে নগরীর দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি ও পেশার বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণে একটি ‘পরামর্শ পরিষদ’ গঠন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাজীপুরের মত বরিশালেও নিরব ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে হাতপাখার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017
Developed By

Shipon