আজ বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন
পল্লী জনপদ ডেস্ক ॥
“আলহামদুলিল্লাহ” শব্দের অর্থ হলো “সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য।” “আলহামদুলিল্লাহ” শুধু একটি আরবি শব্দ নয়, এটি একজন মুসলমানের ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই শব্দটি আমাদের আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, ধৈর্য ধারণ এবং পার্থিব ও পরকালীন কল্যাণ লাভের অন্যতম মাধ্যম।
যেকোনো উত্তম, আনন্দময় ও শুভ খবরে ভালো কিছুর জন্য এটি বলা হয়ে থাকে। পছন্দনীয় কিছু দেখলে বা শুনলে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে হয়।
‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দের মধ্যে আছে ‘হামদ’ শব্দটি। আমরা আল্লাহর গূণকীর্তি করে হামদ গাই। ‘হামদ’ অর্থ ‘প্রশংসা’। ভালো কোনো খবর শুনলে আলহামদুলিল্লাহ বলা সুন্নত। কোরআন পড়া শুরুই করতে হয় ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে। এ ছাড়া কোরআনের অন্যান্য প্রায় সব সুরাই যে এই বাক্য দিয়ে শুরু করতে হয়, তা থেকেই এর তাৎপর্যের প্রমাণ পাওয়া যায়।
মহানবী (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে চারটি বাক্য প্রিয়, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার।’ (মুসলিম)
হাদিসে আছে, ‘আল্লাহর মাহাত্ম্য বর্ণনা ও প্রশংসার জন্য আলহামদুলিল্লাহর চেয়ে উত্তম বাক্য আর নেই।’ (তিরমিজি)
আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ সবচেয়ে বেশি নিজের প্রশংসা পছন্দ করেন, এ জন্য তিনি নিজের প্রশংসা করেছেন এবং আমাদেরও তাঁর প্রশংসার নির্দেশ দিয়েছেন।’ (বুখারি)
হাদিসে আলহামদুলিল্লাহকে সবচেয়ে উত্তম দোয়া বলা হয়েছে। মহানবী (স.) বলেছেন, ‘সর্বোত্তম ফজিলতপূর্ণ বাক্য লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং সর্বোত্তম দোয়া আলহামদুলিল্লাহ।’ (তিরমিজি)
মহানবী (স.) আরও বলেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ আমলের পাল্লা পূর্ণ করে দেয়। আর সুবহানাল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ শব্দ দুটি আসমান ও জমিনের খালি জায়গা পূর্ণ করে দেয়।’ (মুসলিম)
যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এটি কিয়ামতের দিন মিজানের পাল্লাকে ভারী করবে এবং আসমান ও জমিনের শূন্যস্থান পূরণ করে দেবে। এটি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সর্বোত্তম মাধ্যম এবং যেকোনো ভালো খবর বা পরিস্থিতিতে এটি বলা সুন্নত। এই বাক্যটি একটি ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করে এবং যা আছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে সাহায্য করে।