আজ মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন
পল্লী জনপদ ডেস্ক ॥
আদালত অবমাননার মামলায় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এছাড়া গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শাকিল আকন্দ বুলবুলকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
বুধবার (০২ জুলাই) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। ফলে পালিয়ে যাওয়ার পর প্রথমবার সাজাপ্রাপ্ত হলেন শেখ হাসিনা।
গত বছরের ২৫ অক্টোবর গাইবান্ধার এক আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে টেলিফোন কথোপকথনে ২২৭ জনকে মারার হুমকি দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।
পরে এ নিয়ে মামলা করে প্রসিকিউশন। এ ধরনের মামলায় পলাতক আসামিরপক্ষে আইনজীবী নিয়োগের নজির না থাকলেও ন্যায় বিচারের স্বার্থে সরকারি খরচে আইনজীবী পান শেখ হাসিনা।
বুধবার ট্রাইব্যুনাল এক-এ পলাতক শেখ হাসিনাসহ দুইজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার শুনানি হয়। ফাঁস হওয়া অডিও শোনেন ট্রাইব্যুনাল।
২২৭ জনকে মারার লাইসেন্স পেয়েছি, শেখ হাসিনার এ বক্তব্য বিচারব্যবস্থার প্রতি হুমকির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগের পর প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা শাকিল আলম বুলবুলের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানিতে একজন অ্যামিকাস কিউরি (আদালত বন্ধু) নিয়োগ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরও শেখ হাসিনা ও অপর অভিযুক্ত হাজির না হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিচারের স্বচ্ছতার স্বার্থে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামানের অভিমত ট্র্যাইব্যুনাল শুনবেন বলে জানান প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলেও নজর কেড়েছে।