আজ শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন
পল্লী জনপদ ডেস্ক ॥
বাংলাদেশে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা, মামলা, হুমকি, হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চার পরিবেশ দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে, যা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
এই প্রেক্ষাপটে “সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ” সকল জেলা ও উপজেলায় শক্তিশালী কমিটি গঠনের আহ্বান জানাচ্ছে।
বুধবার ২৫ মার্চ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিকদের তড়িৎ সুরক্ষার প্রশ্নে এ প্লাটফর্মটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ২০২০ সালে এ প্লাটফর্মটি প্রতিষ্ঠা লাভের পর কিছু সংখ্যক জেলা উপজেলায় কমিটি গঠন করা হয়। এ কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় কমিটি গঠন আবশ্যিক হয়ে পড়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ জেলা-উপজেলায় এ কমিটি দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠিত ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
আমরা বিশ্বাস করি সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসক, মানবাধিকারকর্মীসহ সমাজের সচেতন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। তবে অবশ্যই তাদেরকে সাংবাদিক বান্ধব ব্যক্তি হতে হবে। ইতিপূর্বে সাংবাদিক নির্যাতন- হয়রানি ঘটনার সাথে জড়িতদের এ কমিটিতে স্থান না দিতে অনুরোধ করা যাচ্ছে।
দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় দায়িত্বশীল ও সচেতন ব্যক্তিবর্গকে নিজ নিজ এলাকায় দ্রুত কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হচ্ছে। একইসাথে গঠিত কমিটিগুলোকে কেন্দ্রীয় নীতিমালার আলোকে কাজ করে নির্যাতিত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ করা হয়।
মনে রাখা উচিত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা। আর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা মানে রাষ্ট্র ও সমাজের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে শক্তিশালী করা।