আজ সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ন

Logo
শিরোনামঃ
লাখো মানুষের গন্তব্য এখন চরমোনাই আসন্ন বাকেরগঞ্জ পৌর নির্বাচনে নারী কাউন্সিলর পদে দোয়া চাইলেন বিএমএসএফ নেত্রী সাবরিনা আক্তার জিয়া ‘ইসরাইলি সেনাবাহিনী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে’ : ইরানের হামলায় এশিয়ায় ১৩ মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস দৌলতদিয়ায় বাস ডুবি : ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার, অনেকেই নিখোঁজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে জেলা ও উপজেলায় কমিটি গঠনের আহ্বান বছর ঘুরে আবারও এলো খুশির ঈদ বাউফলে মাষ্টার মোহাম্মদ ইউনুস বিশ্বাস স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যােগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানি প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে ফেরার পথ খুঁজছে আওয়ামী লীগ
ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের আগ্রাসী যুদ্ধে ১২ বিলিয়ন ডলার গচ্চা ইসরায়েলের

ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের আগ্রাসী যুদ্ধে ১২ বিলিয়ন ডলার গচ্চা ইসরায়েলের

ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের আগ্রাসী যুদ্ধে ১২ বিলিয়ন ডলার গচ্চা ইসরায়েলের

পল্লী জনপদ ডেস্ক ॥

ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের আগ্রাসী যুদ্ধে ইসরায়েল প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম ও অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মোট ক্ষতির পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের আগ্রাসী যুদ্ধে ইসরায়েল প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম ও অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মোট ক্ষতির পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে সামরিক ব্যয়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অবকাঠামো মেরামতের ব্যয়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যুদ্ধ-পরবর্তী পরোক্ষ অর্থনৈতিক প্রভাব এবং বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতিপূরণ দাবি যুক্ত হলে মোট ক্ষতির পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ইসরায়েলি পত্রিকা ‘ইয়েদিয়োত আহরোনোতের’ তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে দেশটির কোষাগারে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ বিলিয়ন শেকেল (৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার)। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নতুন করে ৪০ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ১১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার) বাজেট দাবি করেছে, যা অস্ত্র পুনঃসংগ্রহ, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রিজার্ভ বাহিনী পরিচালনার জন্য ব্যয় হবে। যুদ্ধ শুরুর আগে তারা ১০ বিলিয়ন এবং পরে ৩০ বিলিয়ন শেকেল বাজেট চেয়েছিল।

এদিকে বাজেট ঘাটতি বেড়ে ৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আগেই শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের সময়কার ঘাটতির সঙ্গে মিলে আরও সংকট তৈরি করবে। এ ছাড়া যুদ্ধের ফলে অন্তত ০.২ শতাংশ হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা কর রাজস্ব হ্রাস করবে।

ইসরায়েলি ব্যবসা-বিষয়ক ‘দৈনিক কালকালিস্ট’ জানিয়েছে, ইরানের ওপর আক্রমণ ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে গিয়ে ইসরায়েল প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭২৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। সবমিলে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার। কেবল ক্ষতিপূরণ বাবদই প্রায় ৫ বিলিয়ন শেকেল (দেড় বিলিয়ন ডলার) খরচ হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

‘দ্য মার্কার’ জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত যে ভৌত অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে, তার মূল্য অন্তত ৫ বিলিয়ন শেকেল (দেড় বিলিয়ন ডলার)। বিশ্লেষকরা আগেই সতর্ক করেছিলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইসরায়েলের অর্থনীতি ধসে পড়বে। সম্পত্তি কর দফতরের হিসাবে, ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় প্রায় ১৫ হাজার ইসরায়েলি বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্ধ লক্ষাধিক ইসরাইলি তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন হোটেলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এদের হোটেল ভাড়ার ব্যয় এখন পর্যন্ত ১০০ মিলিয়ন শেকেল (২৯ মিলিয়ন ডলার) ছাড়িয়েছে। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দীর্ঘ সময় ধরে ভাড়া দিতে হবে, কারণ তাদের ভবন পুনর্নির্মাণে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। এ পর্যন্ত ইসরায়েলি ক্ষতিপূরণ তহবিলে ৪১ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৩৩ হাজারটি ভবন ক্ষতির জন্য, আর ৮ হাজারটির বেশি যানবাহন ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষতির জন্য। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণের দাবি এসেছে তেল আবিবের বাসিন্দাদের কাছ থেকে- প্রায় ২৬ হাজার।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার ইসরায়েলি স্থায়ী ক্ষতিপূরণ পেতেন। হামাসের অভিযান পরবর্তী সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজারে।

দ্য মার্কার বলছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পর এই সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে। এত বিপুল ব্যয়ের চাপ সামলাতে ইসরায়েল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন করে আর্থিক সহায়তা বা সরকারি ঋণ গ্যারান্টির কথা ভাবছে বলে জানা গেছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালায়। তারা ইরানের পরমাণু স্থাপনা, সামরিক কমান্ডার, বিজ্ঞানী এবং সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। জবাবে ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে ইসরাইলের বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে।

ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এসব হামলায় ২৯ জন নিহত এবং ৩ হাজার ২৩৮ জন আহত হয়েছে। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করেন প্রকৃত সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি, কারণ ইসরায়েল সাধারণত হতাহতের সংখ্যা যতদূর পারা যায় গোপন করে থাকে।

দ্য মার্কার জানিয়েছে, ইরানের হামলাগুলো ‘প্রলয়ঙ্করী’ ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছে। যার প্রাথমিক ক্ষতি অনুমান করা হচ্ছে কমপক্ষে ৫ বিলিয়ন শেকেল (১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার)। বড় ধরনের ক্ষতির পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। কারণ তারা ইরানের পরমাণু অবকাঠামো ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়। যুদ্ধবিরতির সকালে ইসরাইলের কট্টরপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ তাই মন্তব্য করেন, ‘এটি একটি তিক্ত সকাল।’

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017
Developed By

Shipon