আজ মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন
পল্লী জনপদ ডেস্ক ॥
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার গোলাবাড়ি থেকে হাজিরহাট পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। চলাচলের অনূপযোগী, সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা ও পানিতে একাকার হয়ে যায় রাস্তাটি। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। গর্ত, ধুলো ও উঁচু-নিচুর কারণে প্রতিদিন হাজারো মানুষ, যানবাহন ও স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তা মেরামতে এখনও পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। বর্ষা মৌসুমে কাদা জমে থাকায় যান চলাচল তো দূরে থাক, নিরাপদে হাঁটতেও পারেন না বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, এই রাস্তাটি নিজ বটকাজল, ভাংড়া, বেতাগী, লাবনা, সোনখোলা ও আশেপাশের গ্রামগুলোর সাথে হাজিরহাট এমনকি পটুয়াখালী জেলা সদরে যাওয়ার অন্যতম সংযোগ সড়ক। কিন্তু রাস্তাটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে, বর্ষাকালে পানি জমে কাদায় পরিণত হয়, আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলোর কারণে চোখ-মুখ খুলতে কষ্ট হয়। ছোট গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন মানুষ।” স্কুল-মাদ্রাসাগামী শিশু, কর্মচারী ও ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করলেও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সত্ত্বেও কোনো কাজ হয়নি।
স্থানীয়রা আরো জানান, বৃষ্টি হলেই খানা-খন্দক রাস্তায় পানি জমে কাদায় পরিণত হয়। রাস্তায় পা ফেলা দুষ্কর এই বেহাল রাস্তা দিয়েই কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। রোগী নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতেও কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় পিচ্ছিল কর্দমাক্ত রাস্তায় পড়ে গিয়ে গড়াগড়ি খেতে হয় শিক্ষার্থীদের। শিক্ষকরা জানান, বৃষ্টির সময় স্কুলে যাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায় ছাত্র-ছাত্রীদের। হাতে জুতা নিয়ে পানি-কাদা মাড়িয়ে অনেক কষ্টে স্কুলে যেতে হয়। অনেক সময় কাদায় পা পিছলে পড়ে যায় কেউ কেউ। তাই ক্লাশে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম থাকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের করা ইট সলিং রাস্তার মাঝে মাঝে ইট সলিং উঠে গিয়ে খানাখন্দসহ বড় বড় গর্তে সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্কুল-মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা নিতে রোগীদের যাতায়াতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টির ছিটাফোঁটা পড়লেই এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
এই রাস্তা দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীসহ আতোশখালীবাসী, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।