আজ শনিবার, ১৩ Jun ২০২৬, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন
পল্লী জনপদ ডেস্ক ॥
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা ফ্যাসিবাদকে হটাতে সক্ষম হয়েছি। তবে শুধু সরকারের পতন ঘটালেই চলবে না এই দেশকে নতুন করে গড়তে হলে মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন।
এজন্যই জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ জরুরি। গণঅভ্যুত্থানকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে এবং এই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদের মর্যাদা দিতে হবে। অন্যদিকে চাপাইনবাবগঞ্জে আরেক পথসভায় এনসিপির আহ্বায়ক বলেছেন, আমরা সেই কৃষকের সন্তান যারা বুক চেতিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। সোমবার দুপুরে নাটোর শহরের মাদরাসা মোড়ের স্বাধীনতা চত্বরে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই পদযাত্রার সপ্তম দিনে রাজশাহী থেকে সড়কপথে নাটোরে পৌঁছে এই পথসভায় অংশ নেন নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।
তিনি বলেন, আমরা কোনো ষড়যন্ত্র বা টালবাহানা মেনে নেব না। মৌলিক সংস্কার ও জুলাই সনদের বাইরে কোনো বিকল্প চিন্তা গ্রহণযোগ্য নয়। গণতন্ত্র, সমতা ও ইনসাফভিত্তিক একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা। কিন্তু ৫ আগস্ট বিজয়ের পর থেকে সেই আকাঙ্খা থেকে নানা পক্ষ সরে গেছে।
পথসভায় নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, নাটোরে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ন্যাক্কারজনকভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। যারা এক বছর আগেও এমন বাধা দিয়েছিল, তাদের এখন বাংলার মাটিতে ঠাঁই হয়নি। যারা এখনো শিক্ষা নিচ্ছে না, তাদের পরিণতিও একই হবে।
পথসভায় আরো বক্তব্য দেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনুভা জাবীন, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় সদস্য আসিফ মোস্তফা জামাল, জেলা প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ জার্জিস কাদির এবং নাটোর চেম্বার অব কমার্স সভাপতি ও সিনিয়র যুগ্ম সমন্বয়কারী আব্দুল মান্নাফ। সভা সঞ্চালনা করেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা শারওয়ার নিভা, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা।
নাহিদ ইসলাম বলেন, নাটোরে গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ দেওয়া আট শহীদের আত্মত্যাগকে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। তারা দেশের জন্য নতুন মুক্তি এনেছেন। আমরা যেন তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি, সেটাই আমাদের অঙ্গীকার। পথসভা শেষে নেতারা শহীদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বিকেলে গাড়িবহর নিয়ে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নাটোরের বনপাড়ায় এনসিপি নেতারা এলে দেখে নেওয়া হবে’ এমন প্রচারের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের সন্দেহে খোরশেদ আলম নামে একজনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া এনসিপির নেতাদের স্বাগত জানিয়ে টানানো ব্যানার-ফেস্টুন রোববার গভীর রাতে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও পাওয়া গেছে। নাটোর শহরের স্টেশন বাজার ও নবাব সিরাজউদ্দৌলা সরকারি কলেজ এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গত রোববার চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারী কলেজের সামনে জুলাই পদযাত্রা শেষে পথসভায় অংশ নেন। এসময় নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রিয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেশম শিল্পের জন্য বিখ্যাত। সেই রেশম শিল্পও দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা বাংলাশের যে জাতীয় শিল্প রয়েছে, কুটির শিল্প রয়েছে। সেগুলোকে যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাসী দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনের জন্য আন্দোলন করছেন। আমরা এই সভা থেকে আপনাদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন করছি। আমরা আহ্বান করি সরকার যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাসীর এই দাবি পুরণ করে।
নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মানে দেশ রক্ষায় সীমান্তে কাস্তে হাতে বসে থাকা সেই কৃষক। আমরা সেই কৃষকের সন্তান যারা বুক চেতিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে প্রতিরোধের প্রতিক। সীমান্তে বিএসএফ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে গ্রেনেড মারে, এখানে বোমার বিষ্ফোরণ ঘটনায়। আমরা কিন্তু এইসব আগ্রাসন আর মেনে নিবোনা। সীমান্তে অনেক বাহাদুরি হয়েছে। আর আগ্রাসন চালানো হলে, আমার ভাইদের হত্যা করা হলে আমরা লং মার্চ ঘোষণা করবো। আমাদের সীমান্ত আমরাই রক্ষা করবো।