আজ মঙ্গলবার, ২১ Jul ২০২৬, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন
পল্লী জনপদ ডেস্ক ॥
আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতল স্পেন। এই জয়ে সব মিলিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুললো লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
এর আগে ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন।
টুর্নামেন্টে ফেভারিট হিসেবে খেলতে আসা স্পেন টানা ৩৭টি ম্যাচে অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠেছিল। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে ইউরো চ্যাম্পিয়নরা এতটাই গোছানো ফুটবল খেলেছে যে প্রতিপক্ষকে মাঠে কোণঠাসা করে ফেলে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রবিবার দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হয় দুই দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের স্পষ্ট আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। বলের দখলে শুরু থেকেই আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগকে চাপের মুখে রাখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে লামিন ইয়ামাল গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করে। এরপর ১২তম মিনিটে স্পেন প্রথম কর্নার পেলেও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সতর্কতায় আর্জেন্টিনা বিপদমুক্ত থাকে।
খেলার প্রথম ৪৫ মিনিটে বলের দখলে আধিপত্য বিস্তার করে স্প্যানিশরা আর্জেন্টিনাকে কোণঠাসা করে রাখলেও, গোলমুখের তালা খুলতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। স্পেনের নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের সামনে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের রীতিমতো খুঁজে পেতে কষ্ট হয়েছে। বিপরীতে, আর্জেন্টিনাকে পুরো প্রথমার্ধে রক্ষণভাগ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
গোল আদায়ে প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে গেছে স্পেন। তবে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ বেশ কিছু আক্রমণ প্রতিহত করেন। ফলে নির্ধারিত সময়ে খেলা গোলশূন্য সমতায় থাকায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়ায় ম্যাচ।
উল্লেখ্য, ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে বর্ণিল রঙে সেজেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়াম। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছেন প্রায় ৮০ হাজার দর্শক।
ম্যাচ শুরুর আগেই লাল ও নীল সাদা জার্সি পরিহিত দর্শকে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে স্টেডিয়ামের গ্যালারি। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের সমর্থকদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ফুটবলপ্রেমীদের উপস্থিতিতে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা প্রায় ৮২ হাজার ৫০০ দর্শক। ফলে ফাইনালে গ্যালারির প্রায় সব আসনই পূর্ণ হয়েছে বলে জানা গেছে।
চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহের প্রতিফলন দেখা গেছে স্টেডিয়ামের দর্শক উপস্থিতিতেও।