আজ শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
পল্লী জনপদ ডেস্ক ॥
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্কে আয়োজিত সমাবেশে মন্তব্য করেছেন, একটি রাজনৈতিক দল—যাদের জনগণ গুপ্ত হিসেবে চেনে—এরা এখন নতুন জালেম রূপে বাংলাদেশের মানুষের সামনে এসেছে। গুপ্ত সংগঠনের নেতারা ভুয়া সিল ছাপাচ্ছে, বিভিন্ন প্রেসে জাল ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্কে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আবহমান কাল ধরে, শত হাজার বছর ধরে, নারী-পুরুষ সকলে মিলে মাঠে কাজ করেন। কৃষকের সাথে কৃষানি বোনরাও মাঠে কাজ করেন। কলকারখানায় পুরুষের পাশাপাশি মা-বোন, নারীরা কাজ করেন। যে গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে সারা পৃথিবীতে আমরা গৌরববোধ করি, সেই গার্মেন্টস শিল্প টিকিয়ে রেখেছে এ দেশের নারী সমাজ, মা-বোনেরা।
তিনি আরও বলেন, অত্যন্ত কষ্টের সাথে দেখছি, এই নতুন গুপ্ত জালেমদের নেতা, দুইদিন আগে প্রকাশ্যে বাংলাদেশের নারীদের নিয়ে অত্যন্ত কলঙ্কজনিত শব্দ ব্যবহার করেছেন।
‘যে ব্যক্তি বা দলের নিজ দেশের মা-বোনদের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই, যে দলের নেতা-কর্মীদের কষ্টের প্রতি বিন্দুমাত্র সম্মান নেই, তাদের কাছে আর যাই হোক বাংলাদেশ অগ্রগতি আশা করতে পারে না’, আরও বলেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নারীদের ঘরে বন্দি করে রেখে কোনোভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব—এটা আমরা কখনোই মনে করি না।
তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় খবর দেখতে পাচ্ছি, যারা নতুন জালিম হিসেবে আর্বিভূত হয়েছে, যাদেরকে বাংলাদেশের মানুষ গুপ্ত হিসেবে চেনে তাদের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় ভুয়া সিল ছাপাচ্ছে। আমরা শুনতে পাচ্ছি, তাদের পরিচিত সেসব প্রেস আছে সেখানে তারা ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে, যেটি তারা পকেটে করে নিয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, আমার দেখেছি, তারা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে নিরীহ মা-বোনদের কাছ থেকে এনআইডি নাম্বার নিচ্ছে, বিকাশ নাম্বার নিচ্ছে।
এই গুপ্তের দল, এই জালেমের দল বলছে, তারা নাকি সৎ মানুষের শাসন কায়েম করবে। আরে ভাই, আপনারা তো নির্বাচনের আগে জাল ব্যালট ছাপাচ্ছেন, নির্বাচনের আগেই তো আপনাদের লোকজন মা-বোনদের এনআইডি নাম্বার নিয়ে যাচ্ছে, বিকাশ নাম্বার নিয়ে যাচ্ছে। প্রথমই তো আপনারা অনৈতিক কাজ দিয়ে শুরু করছেন, অনৈতিক কাজ দিয়েই তো মানুষের ভোটকে প্রভাবিত করতে চাচ্ছেন। যাদের ভোটের শুরুটা অনৈতিক, তারা কি সৎ মানুষের শাসন দিতে পারে? পারে না, যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘মা-বোনদের অপমান করার পরে তারা বলে, তারা এ কাজ করেনি। তারা বলছে, তাদের আইডি নাকি হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের আইডি হ্যাক হয়নি। যখন তারা ধরা পড়েছে, তখন তারা বিভিন্ন রকম মিথ্যা কথা বলা শুরু করেছে।’
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে তিনি হেলিকপ্টারযোগে বরিশাল স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে অবতরণ করেন। দীর্ঘ দুই দশক পর তিনি আবারও বরিশালে এলেন।
হেলিকপ্টার থেকে নামার পর তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বরিশাল বিভাগ ও জেলার শীর্ষ নেতারা। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনও নিরাপত্তা জোরদার করেছে। মাঠ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কড়া নজরদারিতে রয়েছেন।
তারেক রহমানকে এক নজর দেখতে সকাল থেকেই বেলস পার্ক ও আশপাশের এলাকায় বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সেখানে উপস্থিত হন।
তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৬ সালে বরিশাল সফর করেছিলেন। তখন তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। এবার তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে বরিশাল আসায় দক্ষিণাঞ্চলে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা ও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে বলে দলীয় নেতারা মন্তব্য করেন।