আজ শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন

Logo
শিরোনামঃ
রাত পোহালেই ভোট, অপেক্ষায় দেশ বিজয় উদযাপনের প্রস্তুতি নিন : ভিপি নুরুল হক নুর নির্বাচনকালীন সাংবাদিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে বিএমএসএফের স্মারকলিপি প্রদান ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বাকী আর মাত্র ৩ দিন গুপ্ত সংগঠনের নেতারা ভুয়া সিল ছাপাচ্ছে, জাল ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে : তারেক রহমান পে স্কেলের দাবিতে বরিশাল টিটিসি’র কর্মচারিদের অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত বরিশাল টিটিসি’র কর্মচারিদের অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ মুফতী ফয়জুল করীমের এবার হবে বাকেরগঞ্জবাসীর ভাগ্য নির্ধারণের ভোট : মাহমুদুন্নবী ইসলামী মূল্যবোধের সমাজ গঠনেই মিলবে মুক্তি : মাওলানা আবদুল জব্বার
রাত পোহালেই ভোট, অপেক্ষায় দেশ

রাত পোহালেই ভোট, অপেক্ষায় দেশ

রাত পোহালেই ভোট, অপেক্ষায় দেশ

পল্লী জনপদ ডেস্ক

বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ কাল। গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছাড়া প্রায় সব রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। মূল লড়াইয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন দুই নির্বাচনী জোট। একইদিনে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট দেশে এই প্রথম হতে যাচ্ছে। ২৪ পরবর্তী সংস্কারের লক্ষ্যে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদের বৈধতা নিশ্চিতে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেবেন ভোটাররা। এবারের জাতীয় নির্বাচন নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গণতন্ত্রে ফেরা, স্থিতিশীলতা অর্জন এবং মানুষের প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েই নির্বাচনে লড়ছে প্রধান দুই জোট।

শেষ মুহূর্তে এসে ভোটের সমীকরণ পাল্টে যাচ্ছে। এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই নির্বাচনে ভাল ফলাফল করবে বলেও ধারণা অনেকের।

এদিকে, সবাইকে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এবারের ভোট হোক নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন।

এতদিন পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত থাকলেও ভোটের দিনের পরিস্থিতি নিয়ে আছে নানা শঙ্কা। ভোটগ্রহণ সামনে রেখে সারা দেশে যেমন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, তেমনি রয়েছে সহিংসতার আশঙ্কাও।

পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন স্টেশন, রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে সর্বত্র এখন একই আলাপ অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন হবে তো। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে এটি এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি।’

সারাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের জমজমাট নির্বাচনী প্রচার শেষ হয়েছে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায়। রাত পোহালেই বৃহস্পতিবার বহুল কাক্সিক্ষত সেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ভিন্ন এক পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে হচ্ছে গণভোট। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্যই এ গণভোট হচ্ছে। দেশে এই প্রথম একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ ও গণভোট। দুটি ভোটগ্রহণ একই দিনে হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

ভিন্ন এক পরিবেশে নির্বাচন হওয়ায় এবারের নির্বাচন নিয়ে দেশের মানুষের পাশাপাশি বিদেশের বিভিন্ন মহলও প্রবল আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপিসহ ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে এ নির্বাচনে। ২ হাজার ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে পৌনে ৩শ’ স্বতন্ত্র প্রার্থী।

প্রার্থীরা দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়িয়েছেন। পাড়া-মহল্লা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাসিমুখে ভোট প্রার্থনা করছেন। মা-বোনসহ মুরব্বিদের দোয়া নিয়েছেন। ২২ জানুয়ারি শুরু হয় নির্বাচনী প্রচার যা শেষ হয় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায়।

ভোটের নিরাপত্তায় ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নয় লাখ ১৯ হাজারের বেশি সদস্য। এর সঙ্গে আছেন দুই হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। এসব ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক সাজা দেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।

এছাড়া আজ কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাবে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনি সামগ্রী। দীর্ঘদিন পর মানুষ মুক্ত পরিবেশে উৎসবের ভোটে অংশ নিতে মুখিয়ে আছেন। ভোট দিতে ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের উদ্দেশে চলে গেছেন। ইসি আশা করছে, এ নির্বাচনে ৬০-৬৫ শতাংশ ভোট পড়বে।

দেশে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি দল এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই হাজার ২৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। দলীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকায় এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা দলটির শীর্ষ নেতারা এ নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছে। তাদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে সারা দেশ থেকে খবর আসছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিরাপত্তার আশ্বাসে দলটির তৃণমূলের একটি অংশ ভোট দিতে যাবে।

বিগত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তিনটি নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ছিল। ওই তিন নির্বাচনের মধ্যে ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোর অংশগ্রহণ ছিল না। ওই তিন নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ একচেটিয়া জয় পায়। অন্যদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। দলটি এখন নির্বাচনবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। এ নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে। নির্বাচনি প্রচারে কিছু ঘটনা ছাড়া দুই পক্ষের মধ্যে খুব বড় ধরনের সংঘর্ষ দেখা যায়নি। তবে ভোটগ্রহণের দিন কিছু কিছু এলাকায় সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এবার নির্বাচনের পরিবেশ ভালো বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিবেশ নিয়ে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। নির্বাচন কমিশনার বলেন, এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা যে পরিস্থিতিতে আছে, তাতে ইসি সন্তুষ্ট। যে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ঘটেছে, এগুলো না ঘটলে আরও ভালো হতো বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, অতীতে যে কোনো সময়ের চেয়ে আমরা ভালো অবস্থায় আছি। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার, সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, সৌহার্দপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আমাদের অনেক প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠান আমরা সম্পন্ন করব। এই সুন্দর পরিবেশ বজায় রেখে ও যেসব জায়গায় কিছুটা হলেও এখনো পর্যন্ত টেনশন বিরাজমান সেগুলো যেন আর কন্টিনিউ না করে, সেই প্রত্যাশা করেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে বেশ কয়েকটি দলের নেতারা প্রার্থী হয়েছেন। এ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দলটির প্রার্থী রয়েছেন ২৯১ জন। অপরদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১টি দল জোট গঠন করেছে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে জামায়াতের প্রার্থী রয়েছেন ২২৮ জন। জোটের শরিকদের মধ্যে এনসিপির ৩২ জন, এবি পার্টির ৩০ জন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৮ জন ও জাতীয় পার্টির ২০০ জন প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য বহিরাগতদের নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান বা যাতায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। সারাদেশের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয় ইসির পক্ষ থেকে।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017
Developed By

Shipon