আজ শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ন

Logo
শিরোনামঃ
লাখো মানুষের গন্তব্য এখন চরমোনাই আসন্ন বাকেরগঞ্জ পৌর নির্বাচনে নারী কাউন্সিলর পদে দোয়া চাইলেন বিএমএসএফ নেত্রী সাবরিনা আক্তার জিয়া ‘ইসরাইলি সেনাবাহিনী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে’ : ইরানের হামলায় এশিয়ায় ১৩ মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস দৌলতদিয়ায় বাস ডুবি : ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার, অনেকেই নিখোঁজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে জেলা ও উপজেলায় কমিটি গঠনের আহ্বান বছর ঘুরে আবারও এলো খুশির ঈদ বাউফলে মাষ্টার মোহাম্মদ ইউনুস বিশ্বাস স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যােগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানি প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে ফেরার পথ খুঁজছে আওয়ামী লীগ
ঝালকাঠিতে তালগাছ কেটে পাঁচ শতাধিক বাবুই পাখির ছানা হত্যা!

ঝালকাঠিতে তালগাছ কেটে পাঁচ শতাধিক বাবুই পাখির ছানা হত্যা!

 

ঝালকাঠিতে তালগাছ কেটে পাঁচ শতাধিক বাবুই পাখির ছানা হত্যা!

পল্লী জনপদ ডেস্ক ॥

ঝালকাঠি সদর উপজেলার পূর্ব গুয়াটন এলাকায় তালগাছ কেটে শতাধিক বাবুই পাখির ছানা ও ডিম ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২৭ জুন) পূর্ব গুয়াটন গ্রামের মোবারেক আলী ফকিরের মালিকানাধীন জমির পার্শ্ববর্তী সড়কের পাশে তালগাছটি ফারুক ব্যাপারীর নামের এক ব্যক্তি কেটে ফেলেছেন।

পূর্ব গুয়াটনের যে তালগাছটি কাটা হয়েছে, সেটি বহু বছর ধরে এলাকায় বাবুই পাখিদের প্রধান আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত ছিল। গাছটি কেটে ফেলার ফলে শতাধিক বাবুইছানা, অসংখ্য ডিম ও বাসা মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যায়। কেটে ফেলা গাছের নিচে আহত ও মৃত পাখির ছানা ও ভাঙা বাসাগুলো পড়েছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের বাসিন্দা মোবারক আলী ফকির তার বাড়ির পাশের তালগাছটি ফারুক ব্যাপারীর কাছে বিক্রি করেন। এরপর ফারুক ব্যাপারী কয়েকজন শ্রমিক (কুঠারি) নিয়ে গাছটি কেটে ফেলেন। গাছ কাটার সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক ছুটে গিয়ে গাছটি না কাটার অনুরোধ করেন। এমনকি গাছের বাজারমূল্য পরিশোধ করে সেটি সংরক্ষণ করতে চাইলেও তারা কোনো কথায় কর্ণপাত করেননি।

স্থানীয় পরিবেশ সচেতন নাগরিক সাব্বির ও জাহিদুল বলেন, এই গাছ শুধু একটি গাছ নয়, এটি একটি প্রাণবৈচিত্র্যের কেন্দ্র ছিল। গাছে গাছে পাখির কিচিরমিচির, ডিম, ছানা-সব মিলে এটি ছিল প্রাণের উৎস। যারা এটি কেটেছে, তারা প্রকৃতির বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে। বাবুই পাখিরা দীর্ঘদিন ধরে এই গাছে বাসা বেঁধে আসছিল। কেউ কেউ একে ‘প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য’ হিসেবেও অভিহিত করেন।

তারা জানান, গাছ কাটার কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিরা শুধু কথা অমান্য করেই ক্ষান্ত হননি, বরং চরম দুর্ব্যবহার করেছেন প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে। একপর্যায়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ডেকে আনা হলেও ততক্ষণে সব শেষ।

ঘটনার পর শনিবার সকালে স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। শেখেরহাট ইউনিয়নের গুয়াটন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মাসুদুর রহমান বলেন, আমি গাছ কাটার পর ঘটনাটি জানতে পারি। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি বহু পাখির বাসা নষ্ট হয়েছে। বিষয়টি ইউএনওকে জানানো হয়েছে এবং তার নির্দেশে গাছটি জব্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ঝালকাঠির নেটওয়ার্ক মেম্বার আল-আমিন বাকলাই বলেন, বাবুই পাখি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, পৃথিবীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অন্যতম নিদর্শন। তাদের বাসা তৈরির কারুকাজ ও সামাজিক আচরণ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। এমন নির্মমতা শুধুই পরিবেশের ক্ষতি নয়, বরং মানবিকতার অপমৃত্যু বলেও মন্তব্য করেন তারা। বাবুই পাখি পরিবেশবান্ধব ও সংরক্ষিত প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। তাদের আবাস ধ্বংস করাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই আইনের আওতায় আনা উচিত।

ঝালকাঠির সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা) ফরেস্টার মো. আরিফুর রহমান বলেন, গাছ কাটার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি একটি বিশাল তালগাছ কেটে ফেলা হয়েছে, যার ডালে শত শত বাবুই পাখির বাসা ছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার ইউএনও ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, উপজেলা প্রশাসন এবং বন বিভাগের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গাছ কাটার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে পৃথক মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ঘটনাটি জানতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা। তিনি বলেন, “বিশ্বজুড়ে ১১৭ প্রজাতির বাবুই পাখির মধ্যে বাংলাদেশে মাত্র তিন প্রজাতি রয়েছে। যাদের মধ্যেও দেশি বাবুই এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।”

তিনি আরও জানান, দেশি বাবুই তাল, নারকেল ও খেজুর গাছে ঝুলন্ত বাসা তৈরি করে। বরিশাল অঞ্চলে এদের দেখা মেলে বেশি। অনেকেই ভুল করে ভাবেন বাবুই ফসলের ক্ষতি করে, অথচ মূলত তারা ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়েই কৃষকের উপকার করে।

বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনের ১ নম্বর তফসিল অনুযায়ী বাবুই একটি সংরক্ষিত পাখি। এটি শিকার, হত্যা বা ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

প্রকৃতির এমন অপরূপ সৃষ্টি ধ্বংস হওয়ায় সচেতন মহল তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

এদিকে, গাছ কাটায় জড়িতদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017
Developed By

Shipon